শুক্রবার সকালে মালদার ইংরেজবাজার ব্লকের অন্তর্গত ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি পুরোনো গ্রন্থাগারে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। লাইব্রেরির বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, এর ভেতরটা যেন কোনো হরর মুভির সেটের মতো হয়ে গেছে।
পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা: সকালবেলা আচমকাই মন্ত্রী লাইব্রেরিতে পৌঁছলে কর্মীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। গ্রন্থাগারের ভেতরে ঢুকে তিনি যা দেখলেন, তাতে তিনি স্তম্ভিত। ১৯৫৩ সালে তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরিটির ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, আসবাবপত্র ভাঙাচোরা এবং বইপত্রগুলি অযত্নে পড়ে রয়েছে। ধুলোবালি ও অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে মন্ত্রী অত্যন্ত বিরক্ত হন। তিনি বলেন, গ্রন্থাগার যেখানে জ্ঞানের আলো ছড়ানোর কেন্দ্র হওয়ার কথা, সেখানে এমন পরিবেশ অত্যন্ত হতাশাজনক।
মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ও নির্দেশ: পরিদর্শনের পর মন্ত্রী জানান, এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। তিনি স্থানীয় গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন। গৌরীশংকর ঘোষ বলেন, “এই অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন লাইব্রেরিগুলোকে এভাবে ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না।” খুব দ্রুত এই লাইব্রেরির সংস্কার ও প্রয়োজনীয় মেরামতির কাজ শুরু করার জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া: লাইব্রেরির এই করুণ দশার কারণে এলাকার ছাত্রছাত্রী ও পাঠকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। গ্রন্থাগারের এমন জরাজীর্ণ পরিবেশের কারণে বই পড়তে আসার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিলেন পাঠকরা। মন্ত্রীর পরিদর্শনের পর এলাকাবাসী এখন নতুন করে আশার আলো দেখছেন। আশা করা হচ্ছে, মন্ত্রীর এই কঠোর পদক্ষেপের পর দ্রুত লাইব্রেরির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।





