ইসিএল-এর জমিতে দাদাগিরি! তৃণমূলত্যাগী কাউন্সিলর সঞ্জয় নোনিয়ার বাবার নামে নোটিশ কর্তৃপক্ষের

খনি অঞ্চলে সরকারি জমি জবরদখল ও তা ব্যবহার করে অবৈধ ব্যবসার অভিযোগ নতুন নয়, তবে এবার এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন তৃণমূলত্যাগী কাউন্সিলর সঞ্জয় নোনিয়া এবং তাঁর ছেলে রোহিত নোনিয়া। ইসিএল (ECL)-এর জমি দখল করে পেট্রল পাম্প স্থাপন এবং রেল সাইডিংয়ে ট্রান্সপোর্টের ব্যবসা চালানোর অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।

কী অভিযোগ? অভিযোগ অনুযায়ী, ইসিএল-এর বিস্তীর্ণ জমি দখল করে সেখানে শুধু পেট্রল পাম্পই নির্মাণ করা হয়নি, বরং রেল সাইডিংয়ের পাশে বিশাল অফিস তৈরি করে অবাধে ট্রান্সপোর্টের ব্যবসাও চালানো হচ্ছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা রোহিত নোনিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক সরকারি জমি দখলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে কর্তৃপক্ষের কাছে।

ইসিএল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ: অবৈধ দখলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ইসিএল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে। জবরদখলকারী চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কাউন্সিলর সঞ্জয় নোনিয়ার বাবার নামে ইতিমধ্যে ইসিএল কর্তৃপক্ষের তরফে শোকজ বা উচ্ছেদ সংক্রান্ত নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে খবর। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করতে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক উত্তাপ: সঞ্জয় নোনিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করার পর এই ধরনের আইনি নোটিশ পাওয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছে তাঁর পরিবার। অন্যদিকে, স্থানীয় বিরোধীরা এবং সাধারণ মানুষ সরকারি জমি উদ্ধার ও স্বচ্ছতার দাবিতে সরব হয়েছেন। তাদের দাবি, কোনো প্রভাব খাটিয়ে যাতে সরকারি জমি বেদখল না থাকে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

বর্তমানে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। ইসিএল-এর জমি উদ্ধারে কর্তৃপক্ষ কতদূর সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy