ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্বের মোট তেলের এক পঞ্চমাংশ এই পথেই পরিবাহিত হয়, আর ভারতের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই এখান থেকে আসে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘শিপিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া’ (এসসিআই) পশ্চিম এশিয়া থেকে ক্রুড অয়েল সরবরাহের জন্য প্রস্তুত। তবে পুরো অপারেশনের আগে ভারতীয় নৌবাহিনীর সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। সরকারি সূত্রে খবর, ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে ‘অপারেশন উর্জা সুরক্ষা’-র অধীনে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে নৌবাহিনী। এসসিআই-এর দুটি এলপিজি ক্যারিয়ার ইতিমধ্যে নিরাপদে এই পথ পেরিয়ে এলেও, পারস্য উপসাগরে এখনও বেশ কয়েকটি ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে দৈনিক প্রায় ৫৫ লক্ষ ব্যারেল তেলের চাহিদা মেটাতে ভারতকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে। তবে সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনোভাবেই জ্বালানি সংকট তৈরি হতে দেওয়া হবে না। বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি হরমুজ পথকে নিরাপদ করে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। পেট্রোল-ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম স্থিতিশীল রাখতে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।





