বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গেই সাধারণ মানুষের মনে সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— সরকারি প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ কী? বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কি বন্ধ হয়ে যাবে? নাকি সেখানে জায়গা করে নেবে মোদীর ‘আয়ুষ্মান ভারত’? এই দোলাচলের মাঝেই এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
সূত্রের খবর, রাজ্যে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’— এই দুটিকেই একসঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার (Merge) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক ছাতার তলায় কীভাবে দুই প্রকল্পের সুবিধা আনা যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি’ (NHA)-র সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক শুরু করেছেন স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা।
ওড়িশা মডেলের পথে বাংলা?
নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালুর নীল নকশা তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চলছে যে, ওড়িশার মতো রাজ্যগুলো যেভাবে নিজেদের প্রকল্পের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্পকেও সফলভাবে চালাচ্ছে, সেই একই মডেল বাংলায় প্রয়োগ করা যায় কি না।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে চালু হওয়া স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বাংলার প্রায় ৮ কোটি মানুষ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পেতেন। তবে এর সীমাবদ্ধতা ছিল রাজ্যের বাইরে। অন্যদিকে, আয়ুষ্মান ভারতের সবথেকে বড় শক্তি হলো এর ‘পোর্টেবিলিটি’। অর্থাৎ, বাংলার কোনো শ্রমিক ভিন রাজ্যে কাজে গেলেও সেখানে চিকিৎসা করাতে পারবেন।
কেন একীভূত করার তোড়জোড়?
স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের মতে, আয়ুষ্মান ভারতের প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো এবং নজরদারি ব্যবস্থা অনেক বেশি মজবুত। স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে অতীতে মাঝেমধ্যেই যে জালিয়াতির অভিযোগ উঠত, কেন্দ্রীয় পরিকাঠামোয় সেই ফাঁকফোকর বোজানো সম্ভব হবে।
চিন্তা বাড়াচ্ছে ‘শর্ত’ ও ‘বকেয়া’
তবে দুই প্রকল্প মেশানোর পথে কাঁটা কম নেই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে:
যোগ্যতার শর্ত: স্বাস্থ্যসাথীতে কোনো বয়স বা আয়ের সীমারেখা ছিল না। কিন্তু আয়ুষ্মান ভারতে নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়া হয়। ফলে প্রকল্পের সংযুক্তি হলে অনেকে এই ব্যবস্থার বাইরে চলে যেতে পারেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালের অনীহা: অনেক বেসরকারি হাসপাতাল স্বাস্থ্যসাথীর বকেয়া টাকা না পাওয়ায় রোগী ভর্তি নিতে অনীহা দেখাচ্ছে। তাদের দাবি, আয়ুষ্মান ভারত চালু হলে পেমেন্ট সিস্টেম আরও স্বচ্ছ হবে।
সমাধানের পথ কী?
বেসরকারি হাসপাতাল সংগঠনগুলি জানিয়েছে, সরকার যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আয়ুষ্মান ভারত চালুর ঘোষণা করে, তবে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আপাতত নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথের পর স্বাস্থ্য দফতর এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আপনার পকেটে থাকা ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য কার্ডটি কি আরও শক্তিশালী হতে চলেছে? উত্তর মিলবে আগামী সপ্তাহেই।





