রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ বড়সড় জালিয়াতির অভিযোগে উত্তাল মুর্শিদাবাদ। সরকারের চোখে ধুলো দিয়ে একের পর এক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বহরমপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে। তারিকুরের গ্রেফতারির ঘটনাটি বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, ধৃত তারিকুর রহমান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একটি প্রতারণা চক্র গড়ে তুলেছিল। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা স্তম্ভিত হয়ে যান যখন দেখেন, তারিকুর শুধুমাত্র নিজের নামে নয়, পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলোকেও এই জালিয়াতির কাজে ব্যবহার করত। হিসেব অনুযায়ী, তারিকুরের নিজের নামে ৩টি, তাঁর স্ত্রীর নামে ৩টি এবং দুই ছেলের নামে ২টি—অর্থাৎ মোট ৮টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নিয়মিতভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা জমা পড়ত। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও, অবৈধ উপায়ে পরিবারের সকলের নামে আবেদন করে সরকারের আর্থিক ভাণ্ডার থেকে টাকা লুঠ করাই ছিল তারিকুরের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার জালিয়াতির ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে এই একই অভিযোগে রাকিবুল শেখ এবং মোস্তাফিজুর রহমান নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন সভাঘরের এক সাংবাদিক বৈঠকে বহরমপুরের রাকিবুল ইসলামের নাম প্রকাশ্যে এনেছিলেন। রাকিবুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও অবৈধভাবে প্রকল্পের টাকা ঢুকত বলে অভিযোগ উঠেছিল। মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া নির্দেশের পর থেকেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তারই সূত্র ধরে গোয়েন্দা তৎপরতায় এবার ধরা পড়ল তারিকুর রহমান।
প্রাথমিক জেরায় ধৃত তারিকুর রহমান এই জালিয়াতির কথা কবুল করেছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, পুলিশের কাছে তার ৮টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিপত্র রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ জালিয়াতির নেপথ্যে আর কোনো প্রভাবশালী চক্র জড়িয়ে আছে কি না, বা সরকারি কোনো কর্মী এই জালিয়াতিতে মদত দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রকৃত উপভোক্তারা যখন প্রকল্পের সুবিধার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, তখন এক শ্রেণির মানুষ অসদুপায়ে সরকারি অর্থ তছরুপ করছে। প্রশাসনকে অবিলম্বে এই ধরণের জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বহরমপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে জেরা করে এই চক্রের বাকি সদস্যদের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী দিনে এই তদন্তের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।





