স্ক্রিন টাইম কি কেড়ে নিচ্ছে শিশুর মুখের বুলি? চণ্ডীগড় পিজিআই-এর বড় সতর্কতা, ১৮ মাসের আগে মোবাইল নয়!

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে শিশুকে শান্ত রাখতে বা খাওয়াতে অনেক বাবা-মায়েরই প্রধান ভরসা স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ। কিন্তু হাতের কাছের এই স্ক্রিনই কি শিশুর ভবিষ্যতের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে? চণ্ডীগড়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (PGIMER)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে— অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের কথা বলার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে বিলম্বিত করতে পারে।

গবেষণায় যা উঠে এল ১৮ থেকে ২৪ মাস বয়সী ১৪০ জন সুস্থ শিশুর ওপর এই বিশেষ গবেষণা চালানো হয়েছিল। সেখানে দেখা গেছে:

  • যেসব শিশু দিনে ১ ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনের (মোবাইল, টিভি বা ট্যাব) সামনে কাটায়, তাদের কথা বলতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।

  • গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুর কথা বলা বা মনের ভাব প্রকাশে সমস্যা হচ্ছে, তারা ১৮ মাস বয়সের অনেক আগে থেকেই মোবাইল ফোনের সংস্পর্শে এসেছিল।

কেন এই বিলম্ব? বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর মস্তিষ্কের দ্রুত বিকাশের জন্য শৈশবকাল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে শিশুর প্রয়োজন চারপাশের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এবং কথোপকথন। কিন্তু ফোনের উজ্জ্বল স্ক্রিন এবং দ্রুত বদলে যাওয়া দৃশ্য শিশুর মস্তিষ্কে এমন প্রভাব ফেলে, যাতে সে একতরফা তথ্য গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে শিশুর আগ্রহ ও ক্ষমতা—দুটোই কমতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: কতটা স্ক্রিন টাইম নিরাপদ? পিজিআই-এর গবেষকরা অভিভাবকদের জন্য বেশ কিছু জরুরি নির্দেশিকা দিয়েছেন:

  • ১৮ মাস বা ১.৫ বছরের আগে: শিশুকে ভুলেও স্মার্টফোন বা স্ক্রিনের সামনে বসাবেন না। এই বয়সে স্ক্রিন টাইম হওয়া উচিত একেবারে শূন্য

  • ২ বছরের নিচে: ২ বছর পর্যন্ত শিশুদের টিভি বা ফোনের কার্টুন থেকে দূরে রাখুন। তবে পরিবারের সদস্যদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

  • বিকল্প পথ: শিশুকে ব্যস্ত রাখতে কার্টুনের বদলে খেলনা বা গল্পের বই দিন। তাদের সাথে সরাসরি কথা বলুন এবং খেলাধুলা করুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy