স্কুলের ৫ ফুটের মধ্যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! বীরভূমে ধূলিসাৎ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দেওয়াল

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই ফের একবার শিরোনামে বীরভূমের দুবরাজপুর। তবে এবার কোনও পরিত্যক্ত মাঠ নয়, খোদ যশপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে মজুত রাখা বোমার বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল এলাকা। তীব্রতা এতটাই ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে গুঁড়িয়ে গেছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কংক্রিটের সীমানা প্রাচীর।

বিস্ফোরণের নেপথ্যে বড়সড় নাশকতার ছক?
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয় সূত্রে খবর, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দেওয়াল ঘেঁষেই থলি ভর্তি প্রচুর শক্তিশালী বোমা মজুত করে রাখা হয়েছিল। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৫ ফুট দূরত্বে রয়েছে যশপুর হাই স্কুল। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণটি যদি স্কুল চলাকালীন বা টিফিনের সময় হতো, তবে কয়েকশ প্রাণহানি ঘটতে পারত। আতঙ্কে থাকা এক নৈশপ্রহরী জানান, “হঠাৎ বিকট শব্দে চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে গেল। দেওয়ালটা ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে।”

রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি: ‘ধামাচাপা’ দেওয়ার অভিযোগ
ঘটনা ঘিরে মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর:

বিজেপির তোপ: স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, প্রমাণের চিহ্ন মুছে ফেলতে রাতেই তড়িঘড়ি ভেঙে যাওয়া দেওয়াল নতুন করে গেঁথে রং করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, “বাংলায় সাধারণ মানুষ কি সুরক্ষিত? ভোট আসতেই কেন আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে?”

তৃণমূলের পাল্টা: ঘাসফুল শিবিরের মুখপাত্র জামশেদ আলি খানের দাবি, বিজেপিই হারার ভয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে এই কাজ করেছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার। তৃণমূল কংগ্রেসের উন্নয়নের নিরিখে বোমার রাজনীতির প্রয়োজন নেই।

তদন্তে দুবরাজপুর পুলিশ
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুবরাজপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। কারা সরকারি জায়গায় এভাবে মরণফাঁদ পেতে রেখেছিল, তার সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তবে রাতের অন্ধকারে তড়িঘড়ি দেওয়াল মেরামতের অভিযোগ ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy