স্কুলের শিক্ষক না হয়েও পড়ানো যাবে ক্লাস! বাংলায় আসছে মোদীর স্বপ্নের ‘বিদ্যাঞ্জলি’ প্রকল্প

রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলোর পরিকাঠামো ও পঠনপাঠনের মানোন্নয়নে নতুন দিশা। শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ উদ্যোগে এবার পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে পুরোদমে কার্যকর হতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকারের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচি—‘বিদ্যাঞ্জলি’ (Vidyanjali)। সম্প্রতি এই মর্মে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

বিদ্যাঞ্জলি আসলে কী? সহজ কথায়, বিদ্যাঞ্জলি হলো একটি ‘স্কুল ভলান্টিয়ার প্রোগ্রাম’ বা স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচি। এর মূল লক্ষ্য হলো সরকারি বিদ্যালয়গুলোর সাথে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে যুক্ত করা। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা সরাসরি স্কুলের প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে কী কী করা যাবে? প্রকল্পটির দুটি প্রধান দিক রয়েছে—সেবা প্রদান এবং পরিকাঠামো সহায়তা।

  • পঠনপাঠন ও সহ-শিক্ষামূলক কাজে অংশগ্রহণ: অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সরকারি আধিকারিক, পেশাজীবী বা যে কোনো সাধারণ নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে স্কুলের বাচ্চাদের পড়াতে পারবেন। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা, যোগব্যায়াম, শিল্পকলা, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং বা নাচ-গানের মতো সৃজনশীল বিষয়েও তারা পাঠ দিতে পারবেন।

  • পরিকাঠামো ও সামগ্রী দান: কর্পোরেট সংস্থাগুলি তাদের সিএসআর (CSR) তহবিলের মাধ্যমে স্কুলের জন্য কম্পিউটার ল্যাব, লাইব্রেরি, খেলার সরঞ্জাম বা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র (যেমন বেঞ্চ, ফ্যান) অনুদান হিসেবে দিতে পারবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া: প্রতিটি স্কুলকে তাদের UDISE+ কোড ব্যবহার করে ‘বিদ্যাঞ্জলি’ পোর্টালে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর বিদ্যালয়গুলো তাদের প্রয়োজনীয়তার তালিকা পোর্টালে আপলোড করবে। আগ্রহী ব্যক্তি বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো সেই তালিকা দেখে সরাসরি সংশ্লিষ্ট স্কুলের সাথে যোগাযোগ করে সহায়তা প্রদান করতে পারবেন।

কেন এই উদ্যোগ? শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বহু স্কুলে পরিকাঠামোগত অভাব বা শিক্ষক ঘাটতির মতো সমস্যা থাকে। ‘বিদ্যাঞ্জলি’র মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও সামাজিক সংস্থাগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ সেই খামতিগুলো পূরণে বড় ভূমিকা নেবে। এটি কোনোভাবেই নিয়মিত শিক্ষকদের বিকল্প নয়, বরং সরকারি বিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করার একটি সহায়ক মাধ্যম।

রাজ্যের সমস্ত জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (DI) এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, বাংলার সরকারি স্কুলগুলো এই সুযোগকে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy