স্কুল বন্ধ, সরকারি গাড়িতে কোটা! চরম জ্বালানি সংকটে থমকে যাওয়ার মুখে শাহবাজ শরিফের পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপোড়েন এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক দৈন্য— এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে কার্যত স্তব্ধ হওয়ার মুখে পাকিস্তান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে জ্বালানি সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় চরম সংকটে দেশটি। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, এবার দেশজুড়ে জ্বালানি ‘রেশনিং’ ব্যবস্থা চালুর কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে শাহবাজ শরিফ সরকার।

কেন এই পরিস্থিতি? পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তান তার প্রয়োজনীয় জ্বালানির ৮০ শতাংশই আমদানি করে। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চড়া দাম মেটানোর মতো বিদেশি মুদ্রার ভাঁড়ার ইসলামাবাদের কাছে নেই বললেই চলে।

সংকট সামাল দিতে কঠোর পদক্ষেপ: পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই সরকার কিছু জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে:

  • স্কুল বন্ধ: জ্বালানি সাশ্রয় করতে দেশজুড়ে সমস্ত স্কুল টানা দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • সরকারি গাড়িতে কোটা: সরকারি আধিকারিকদের গাড়িতে তেলের ব্যবহারে কড়াকড়ি করা হয়েছে এবং মাসিক কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

  • রেশনিংয়ের ইঙ্গিত: অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সাধারণ মানুষের জন্যও তেলের রেশনিং (অর্থাৎ নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল কেনা যাবে না) চালু করা হতে পারে।

অর্থনীতির ওপর আঘাত: এমনিতেই ঋণের দায়ে জর্জরিত পাকিস্তানের অর্থনীতি এখন খাদের কিনারায়। যদি তেলের রেশনিং শুরু হয়, তবে তার প্রভাব পড়বে পরিবহন ব্যবস্থা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামের ওপর। আপাতত ভর্তুকি দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও, বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে পাকিস্তান কতদিন এই চাপ সামলাতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের আবহে দক্ষিণ এশিয়ার এই পরমাণু শক্তিধর দেশটির ভবিষ্যৎ এখন কার্যত এক ব্যারেল তেলের ওপর নির্ভর করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy