বৃহস্পতিবার (১২ জুন, ২০২৫) গুজরাটের মেঘানিনগরে এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণী। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে, তাঁর প্রয়াণের তারিখ এবং তাঁর জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা একটি বিশেষ সংখ্যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা— ১২০৬। জ্যোতিষবিজ্ঞানের এক অদ্ভুত শাখা, সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী, আমাদের জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যেন কোনো না কোনো সংখ্যার সঙ্গে জড়িত। রূপাণীর জীবনেও এই ১২০৬ সংখ্যাটি যেন এক রহস্যময় ছায়াসঙ্গীর মতো বারবার ফিরে এসেছে।
সৌভাগ্যের প্রতীক নাকি দুর্ভাগ্যের ইশারা? রূপাণীর জীবনে ১২০৬-এর পুনরাবৃত্তি
বিজয় রূপাণী মনে করতেন, ১২০৬ সংখ্যাটি তাঁর জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক। তাঁর জীবনের ছোট-বড় বাঁকে এই সংখ্যাটির উপস্থিতি এতটাই যে, তাকে নিছক কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন:
তাঁর ব্যক্তিগত প্রায় সমস্ত গাড়ির নম্বর প্লেটেই থাকত ১২০৬।
জীবনের প্রথম যে গাড়িটি তিনি কিনেছিলেন, তার নম্বরও ছিল ১২০৬।
তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যাও ছিল ১২০৬।
বছরের পর বছর ধরে তিনি যখনই নতুন কোনো গাড়ি কিনেছেন, চেষ্টা করেছেন যাতে তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১২০৬ হয়।
অনেকেই মনে করতে পারেন, এই সংখ্যাটি তাঁর জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক ছিল অথবা এটি তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দের একটি সংখ্যা মাত্র।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সংখ্যাটি কি সত্যিই তাঁর জন্য সৌভাগ্যের ছিল? কারণ, যে তারিখে বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর প্রয়াণ হলো, সেই তারিখটি জুন মাসের ১২ তারিখ— অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১২.০৬ তারিখেই নেমে এল অভিশাপ।
সংখ্যাতত্ত্বের বিতর্ক: কর্নার খেলা নাকি নেগেটিভ এনার্জি?
সংখ্যাতাত্ত্বিকরা জানাচ্ছেন, কোনো সংখ্যা যেমন কারও সৌভাগ্যের প্রতীক হতে পারে, তেমনই ক্ষেত্রবিশেষে ‘কর্মা’ বা কর্মফলের ভিত্তিতে সেই সংখ্যার মধ্যেই প্রবেশ করতে পারে নেগেটিভ এনার্জি। আর তাতেই হতে পারে বিপদ। সৌভাগ্য বদলে যেতে পারে দুর্ভাগ্যে।
তবে, বলা বাহুল্য, এই কঠিন সময় এসব তাত্ত্বিক আলোচনার জন্য উপযুক্ত নয়। তাই এখনই এবিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করা অনুচিত বলেই মত তাঁদের। বিজয় রূপাণীর প্রয়াণ এবং তাঁর জীবনের সঙ্গে ১২০৬ সংখ্যার এই অদ্ভুত যোগসূত্র অনেককে ভাবিয়ে তুলছে, এবং সংখ্যাতত্ত্বের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন জাগাচ্ছে। এই কাকতালীয় সম্পর্কটি কি কেবলই এক অদ্ভুত সমাপতন, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো গভীর রহস্য, তা হয়তো ভবিষ্যতেই উন্মোচিত হবে।