সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনে বাজার খোলার পরই ধসে গেল দেশের প্রধান দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূচক, সেনসেক্স এবং নিফটি৫০। বাজার খুলতেই উভয় সূচক ১.২০ শতাংশের বেশি কমে যায়। যদিও এক ঘণ্টা পর পতনের মাত্রা কিছুটা সামাল দেওয়া গেছে, তবুও সেনসেক্স ও নিফটি৫০ শেষ ক্লোজিংয়ের থেকে এখনও ০.৮৫ শতাংশ নিচে অবস্থান করছে।
বাজারের রক্তক্ষরণ: সেনসেক্স ৮০ হাজার, নিফটি ৪১৫ পয়েন্ট নিচে
শুক্রবার ট্রেডিংয়ের শুরুতেই সেনসেক্স ১২০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে ৮০ হাজার ৪২৭ পয়েন্টে নেমে যায়। বৃহস্পতিবার বাজার বন্ধের সময় সেনসেক্স ছিল ৮১ হাজার ৬৯১ পয়েন্টে।
একইভাবে, নিফটি৫০-র যাত্রা শুক্রবার শুরু হয়েছে ২৪ হাজার ৪৭৩ পয়েন্টে, অর্থাৎ শেষ ক্লোজিংয়ের থেকে ৪১৫ পয়েন্ট নিচে নেমেছিল ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের এই প্রধান সূচক। বৃহস্পতিবার বাজার বন্ধের সময় নিফটি৫০ ছিল ২৪ হাজার ৮৮৮ পয়েন্টে। এর পাশাপাশি মিডক্যাপ, স্মলক্যাপ-সহ একাধিক সেক্টরাল সূচকেরও পতন হয়েছে এদিন।
পতনের নেপথ্যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তেলের দাম বৃদ্ধি
বাজার বিশ্লেষকরা এই গভীর পতনের পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে প্রধান হলো মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি। বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলি সেনা আকাশপথে ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলা চালিয়েছে। এর পর পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা শেয়ার বাজারের পতনের অন্যতম প্রধান কারণ বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইসরায়েল ইরানে হামলা করার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। ক্রুড অয়েলের দাম শুক্রবার প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভারত অশোধিত জ্বালানি তেলের সবথেকে বড় আমদানিকারক দেশ হওয়ায় এই দাম বৃদ্ধির প্রভাবে ভারতের শেয়ার বাজার অস্থির হয়েছে।
নিরাপদ লগ্নির দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা, রুপির রেকর্ড পতন
যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হতেই বাজার থেকে টাকা সরিয়ে সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মতো নিরাপদ লগ্নির দিকে ঝুঁকেছেন বিনিয়োগকারীদের একাংশ। এর জেরে ডোমেস্টিক মার্কেটে সোনার দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দাম অনেকটা বেড়েছে, যার প্রভাবও শেয়ার বাজারে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন।
এছাড়াও, বৃহস্পতিবার ভারতীয় মুদ্রার দাম মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে অনেকটাই কমেছে। প্রায় ৭৩ পয়সা দাম কমেছে ভারতীয় মুদ্রার, যার জেরে প্রতি ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় মুদ্রার দাম হয়েছে ৮৬.২৫ টাকা। এই বিষয়টিও শেয়ার বাজারের পতনে অবদান রেখেছে।
ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের আবহে শুক্রবার এশিয়ার সমস্ত বাজারই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, হংকং-এর মতো দেশের স্টক মার্কেটে ধস নেমেছে এবং ভারতীয় বাজারও এর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি।