উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR) ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ট্র্যাক আধুনিকীকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। রেলের ইতিহাসে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত অর্থবর্ষে ‘ফেজড অ্যারে আল্ট্রাসনিক টেস্টিং’ (PAUT) প্রযুক্তির সফল সূচনার পর, চলতি বছরে মোট ৫৩,৫৪৪টি ওয়েল্ড বা ঝালাই পরীক্ষা করা হয়েছে, যা ট্র্যাকের সুরক্ষা ও নির্ভরযোগ্যতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।
রেকর্ড ট্র্যাক নবীকরণ ও পরিকাঠামো উন্নয়ন:
এই জোনের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ পরিমাণ ট্র্যাক নবীকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৪৫৭টি সিটিআর (CTR) ইউনিট সম্পন্ন করার মাধ্যমে গত বছরের তুলনায় ৩৩.০৭% অগ্রগতি নিশ্চিত করেছে রেল। পাশাপাশি ৪৪৯.৪২ কিলোমিটার রেল নবীকরণ করা হয়েছে, যা এনএফআর জোনের ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড। বার্ষিক লক্ষ্যের দিকে নজর রেখে ৪৬৫.০২ টিকেএম (TKM) স্লিপার নবীকরণের কাজও শেষ হয়েছে।
গতি ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি:
ট্র্যাক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে ৯.৫৭ লক্ষ ঘনমিটার ব্যালাস্ট (পাথর) সরবরাহ করা হয়েছে, যা রাইডিং কোয়ালিটি উন্নত করতে সাহায্য করেছে। শুধু তাই নয়, ২৯৯.৬১ কিলোমিটার ট্র্যাক ফিটিংস রিনিউয়াল করা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৬.১৫% বেশি। ট্রেনের যাতায়াত আরও মসৃণ করতে ৪,৩১২টি পয়েন্ট ট্যাম্প করা হয়েছে।
পরিচালনগত দক্ষতার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য হলো—৩৯টি স্টেশনে লুপ লাইনের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫ কিমি থেকে বাড়িয়ে ৩০ কিমি করা হয়েছে। এর ফলে ট্রেন চলাচলের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনই বাড়বে দক্ষতা। আল্ট্রাসনিক ফ্ল ডিটেকশন (USFD) পরীক্ষার মাধ্যমে ২০,২১২.৬১ কিমি এলাকা নিরীক্ষণ করে ট্র্যাক সেফটি মনিটরিংয়েও বাজিমাত করেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। এই সামগ্রিক উন্নয়ন উত্তর-পূর্বের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করল।





