সুপ্রিম কোর্টেও গুটখার পিক! রেগে আগুন বিচারপতিরা, জারি হলো কড়া নিষেধাজ্ঞা

নেশার গ্রাস থেকে রেহাই পেল না দেশের সর্বোচ্চ আদালতও। যে চত্বরে সংবিধান আর ন্যায়ের শাসন চলে, সেখানেই যত্রতত্র ছড়িয়ে রয়েছে গুটখা আর পানমশলার পিকের লাল ছোপ। দেওয়ালের কোণ থেকে শুরু করে ওয়াশ বেসিন— নেশাড়ুদের থুতু থেকে বাদ যায়নি কিছুই। শেষ পর্যন্ত এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে কড়া নির্দেশিকা জারি করতে বাধ্য হলো সুপ্রিম কোর্ট।

কী বলছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা?
গত ১১ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের তরফে জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে:

নোংরা হচ্ছে চত্বর: আদালতে আসা এক শ্রেণির মানুষ গুটখা ও তামাক চিবিয়ে দেওয়ালের কোণে ও বেসিনে ফেলছেন, যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু।

বিপর্যস্ত নিকাশি: থুতু ও তামাকের অবশিষ্টাংশের ফলে আদালতের জল নিকাশি ব্যবস্থা বারবার ব্যাহত হচ্ছে।

সংক্রমণের ঝুঁকি: যত্রতত্র থুতু ফেলার ফলে রোগজীবাণু ছড়ানোর এবং সংক্রমণের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে বলে আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের কাছে আর্জি
শীর্ষ আদালতের রেজিস্ট্রি বিভাগ থেকে দেশের তাবড় আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থীদের কাছে চত্বর পরিষ্কার রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। নির্দেশিকায় সাফ বলা হয়েছে, “আদালত চত্বরে গুটখা বা পানমশলা খেয়ে থুতু ফেলবেন না। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব।”

নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল?
২০১৭ সালেই FSSAI গুটখা ও পানমশলা তৈরি ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা যে বদলায়নি, সুপ্রিম কোর্টের এই ঘটনাই তার সবথেকে বড় প্রমাণ। সমীক্ষা বলছে, ভারতের ২৯.৬ শতাংশ পুরুষ এবং ১২.৮ শতাংশ মহিলা তামাকজাত পণ্যে আসক্ত। রেলস্টেশন বা বাসস্ট্যান্ডের পর এখন দেশের প্রধান বিচারালয়েও পানের পিকের এই ‘লাল আতঙ্ক’ প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy