চলতি বছর সিবিএসই (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণির ফল প্রকাশের পর থেকেই ‘অন স্ক্রিন মার্কিং’ (OSM) বা ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই বিতর্ক এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এক পরীক্ষার্থীর বিস্ফোরক অভিযোগ, বোর্ডের ওয়েবসাইটে আপলোড করা তাঁর পদার্থবিজ্ঞানের উত্তরপত্রটি আদতে তাঁর নিজের নয়!
ঘটনার সূত্রপাত: দিল্লির বাসিন্দা বেদান্ত শ্রীবাস্তব নামে এক পরীক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, পুনর্মূল্যায়নের জন্য বোর্ড যে স্ক্যান করা উত্তরপত্র আপলোড করেছে, তার সঙ্গে তাঁর হাতের লেখার কোনো মিল নেই। শুধু তাই নয়, ওই উত্তরপত্রে তিনি যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছিলেন, তার অনেক কিছুই সেখানে অনুপস্থিত। বেদান্তর দাবি, তাঁর ইংরেজি এবং কম্পিউটার সায়েন্সের উত্তরপত্রের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত নোটের হাতের লেখার চমৎকার মিল থাকলেও, পদার্থবিজ্ঞানের উত্তরপত্রটি সম্পূর্ণ অন্য কোনো শিক্ষার্থীর। এই অভিযোগের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
কেন এই উদ্বেগ? পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, বোর্ডের এই নতুন OSM ব্যবস্থার ফলে একাধিক গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে:
উত্তরপত্র অদলবদল: বেদান্তর মতো আরও অনেক পরীক্ষার্থী দাবি করছেন, ডিজিটাল স্ক্যানিং ও ট্যাগিংয়ের সময় উত্তরপত্র অদলবদল হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
অস্পষ্ট স্ক্যান কপি: অনেকেই অভিযোগ করেছেন, আপলোড করা স্ক্যান কপিগুলো এতটাই অস্পষ্ট বা ঝাপসা যে, তা পড়ে দেখা শিক্ষকদের পক্ষেও কার্যত অসম্ভব।
সিস্টেমের নির্ভরযোগ্যতা: যেসব ছাত্রছাত্রী বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে ভালো ফলের আশা করেছিল, তাদের প্রাপ্ত নম্বর প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম হওয়ায় এই ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে তারা বড় প্রশ্ন তুলেছেন।
বোর্ডের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া: এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেও সিবিএসই তাদের এই ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে ‘স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ’ বলে দাবি করেছে। বোর্ডের দাবি, পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রকের সূত্র বলছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও সিবিএসই সরাসরি কোনো উত্তর দেয়নি, তবুও পরীক্ষার্থীদের এই ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়টি যে বোর্ডের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, তা স্পষ্ট।
বিরোধীদের সমর্থন ও বিতর্ক: বেদান্তর এই পোস্ট নিয়ে নেটপাড়ায় কয়েক লক্ষ ভিউ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। বেদান্তর পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই। অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সোশাল মিডিয়ায় কিছু ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ট্রোলিংও লক্ষ্য করা গেছে, যা পুরো বিতর্কটিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।
পরীক্ষার্থীদের দাবি, বোর্ডকে অবিলম্বে এই ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থা অডিট করতে হবে এবং আসল শারীরিক (physical) উত্তরপত্রগুলো পুনরায় যাচাই করে দেখতে হবে। এখন দেখার বিষয়, সিবিএসই এই স্বচ্ছতার প্রশ্নের মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেয়।





