জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগোল সিবিএসই (CBSE)। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই বড়সড় রদবদল আসতে চলেছে স্কুলগুলোর পাঠ্যক্রমে। সম্প্রতি বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি জরুরি সার্কুলার জারি করে জানানো হয়েছে, নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী সিলেবাস এবং ত্রি-ভাষা সূত্র (Three-Language Formula) আগামী ৭ দিনের মধ্যেই সমস্ত স্কুলকে চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
কী এই নতুন ত্রি-ভাষা সূত্র? সিবিএসই-র নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণি (Class 6) থেকে শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাষা পড়তে হবে। যার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
দুটি ভারতীয় ভাষা: তিনটি ভাষার মধ্যে অন্তত দুটি ভাষা অবশ্যই ভারতীয় (Native Indian Languages) হতে হবে।
তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক: ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই তৃতীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে এটি দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রসারিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
বই নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই: বোর্ড জানিয়েছে, অফিসিয়াল পাঠ্যবই বাজারে আসতে দেরি হলে স্কুলগুলো স্থানীয় বা সহজলভ্য উপযুক্ত বই দিয়ে পড়াশোনা শুরু করতে পারে। তবে পড়াশোনা শুরু করার জন্য কোনোভাবেই অপেক্ষা করা যাবে না।
সাত দিনের ডেডলাইন কেন? বোর্ড স্পষ্ট করেছে যে, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে যাওয়ার ফলে কোনোভাবেই সিলেবাস রূপায়ণে দেরি করা চলবে না। যে সমস্ত স্কুল এখনো এই নিয়ম কার্যকর করেনি, তাদের আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করে বোর্ডকে জানাতে হবে। এমনকি ওএসআইএস (OASIS) পোর্টালে এই সংক্রান্ত তথ্য আপডেট করাও বাধ্যতামূলক।
অঙ্ক ও বিজ্ঞানেও বড় বদল (Class 9): কেবল ভাষাই নয়, নবম শ্রেণি থেকে অঙ্ক (Maths) ও বিজ্ঞানে (Science) ‘টু-লেভেল’ সিস্টেম চালু হচ্ছে।
স্ট্যান্ডার্ড লেভেল: যা সবার জন্য বাধ্যতামূলক (৮০ নম্বর)।
অ্যাডভান্সড লেভেল: যারা ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং বা বিজ্ঞানের উচ্চতর গবেষণা করতে চায়, তারা অতিরিক্ত ২৫ নম্বরের একটি ঐচ্ছিক পরীক্ষা দিতে পারবে।
বোর্ডের বার্তা: সিবিএসই-র মতে, এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো মুখস্থ বিদ্যার বদলে দক্ষতা এবং বাস্তবমুখী জ্ঞান (Competency-based learning) বাড়ানো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং কোডিং-এর মতো বিষয়গুলোকেও এখন থেকেই গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
এই হঠাৎ নির্দেশে স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা শোরগোল পড়লেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করতে সাহায্য করবে।





