সামনে এলো এক নতুন পদ্ধতিতে ছাগল চুরির ঘটনা! চোরের আদব-কায়দার কথা শুনে চমকে গেছে পুলিশও

সাধারণত গরিবের গোয়াল বা গ্রামগঞ্জের ছোটখাটো চুরির ঘটনা শোনা যায়। কিন্তু জলপাইগুড়িতে সম্প্রতি যে ছাগল চুরির ঘটনা সামনে এসেছে, তা রীতিমতো অভিনব! অভিযোগ, একটি বিলাসবহুল আর্টিগা গাড়িতে চেপে সংঘবদ্ধ চক্র ছাগল চুরি করছে। চোরের আদব-কায়দার কথা শুনে চমকে গেছে পুলিশও।

দামি গাড়ি, সিসিটিভি ফুটেজ, এবং পুলিশের নড়াচড়া
মণীন্দ্র বর্মন নামে এক ব্যক্তি সম্প্রতি হলদিবাড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, তাঁর ছাগল চুরি হয়ে গেছে। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, “চোর” দামি গাড়িতে করে আসে এবং বাড়ি থেকে ছাগল তুলে নিয়ে যায়। তিনি অভিযোগের সমর্থনে সিসিটিভি ফুটেজও জমা দেন, যেখানে একটি আর্টিগা গাড়িতে অভিযুক্তদের ছাগল চুরি করতে দেখা যায়।

অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসে হলদিবাড়ি থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মণীন্দ্র বর্মনের অভিযোগটি সম্পূর্ণ সত্যি। শুধু একটি জায়গায় নয়, এই চক্রটি জলপাইগুড়ির একাধিক এলাকায় একই কায়দায় ছাগল চুরি করে আসছে।

জেল থেকে সরাসরি রিমান্ডে: ধরা পড়ল দুই অভিযুক্ত
পুলিশের তদন্তে মক্সেদুল রহমান নামে জলপাইগুড়ির এক যুবকের নাম উঠে আসে। অভিযোগকারী বিষয়টি নিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করে ফেসবুকে একটি পোস্টও করেন। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ জানতে পারে, মক্সেদুল ইসলাম ইতিমধ্যেই ছাগল চুরির অভিযোগে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলখানায় রয়েছে। আরও জানা যায়, রাকেশ রহমান নামে আরেক যুবকও একই অভিযোগে জেলে আছে। ফলে, হলদিবাড়ি থানার পুলিশ ওই দু’জনের জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় থাকে।

জেল থেকে ছাড়া পাওয়া মাত্রই হলদিবাড়ি থানার পুলিশ জেল গেটের সামনে থেকে মক্সেদুল রহমান ও রাকেশ রহমানকে ফের গ্রেপ্তার করে। এরপর তাদের মেখলিগঞ্জ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করার পর আরও এক অভিযুক্তের নাম উঠে আসে। হলদিবাড়ি থানার পুলিশ তার জলপাইগুড়ির বাড়িতেও অভিযান চালায়।

উদ্ধার হলো গাড়ি, কিন্তু রহস্য কি আরও গভীরে?
তদন্তে নেমে চুরিতে ব্যবহৃত বিলাসবহুল আর্টিগা গাড়িটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে মক্সেদুল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানায়, তাকে সরিফুল ফাঁসিয়েছে এবং তারা গাড়িটি ভাড়া করেছিল। তবে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ গড়াই জানিয়েছেন, জেরার মুখে ধৃতেরা স্বীকার করেছে যে তারা একাধিক জায়গা থেকে ছাগল চুরি করেছে। এর পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই অভিনব ছাগল চুরির ঘটনা জলপাইগুড়িতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সংঘবদ্ধ এই চক্রের পেছনে কি আরও বড় কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে? পুলিশি তদন্তেই মিলবে এর উত্তর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy