বিয়ের মরসুম দরজায় কড়া নাড়ছে। ভারতের বাজারে হু হু করে বাড়ছে সোনার দাম। আর এই ক্রমবর্ধমান দামের সুযোগ নিয়েই সাধারণ মানুষকে প্রতারণার জালে ফাঁসাতে বাজারে প্রবেশ করানো হয়েছে ভয়ংকর এক ‘নকল সোনা’। আপনি যদি লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে সোনার গয়না কেনার পরিকল্পনা করেন, তবে এখনই সাবধান হওয়া প্রয়োজন। কারণ, যে উজ্জ্বল ধাতুটিকে আপনি ২৪ ক্যারেট সোনা ভাবছেন, তা আসলে একটি সস্তা সংকর ধাতু।
কি এই ‘বাংলাদেশি লাল সোনা’?
বর্তমানে বাজারে এক প্রকার নকল সোনা ছেয়ে গেছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘বাংলাদেশি লাল সোনা’। এটি দেখতে আসল সোনার মতোই উজ্জ্বল, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনার চেয়েও বেশি চকচকে। কিন্তু বাস্তবে এটি রূপার চেয়েও সস্তা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এই ধাতুকে গলানোর পরেও এর ঔজ্জ্বল্য ম্লান হয় না। এই বিশেষ ধাতুটিকে বলা হয় ‘একা সোনা’। এর গুণমান এমনভাবে তৈরি যে, শুধুমাত্র সাধারণ মানুষই নয়, অভিজ্ঞ স্বর্ণকারদেরও এটি আসল সোনার বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
কিভাবে তৈরি হয় এই নকল সোনা?
তদন্তকারী এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লাল সোনা মূলত তামা, নিকেল, দস্তা এবং টাংস্টেনের একটি মিশ্রণ। এই বিভিন্ন ধাতু মিশিয়ে এমন এক সংকর ধাতু তৈরি করা হয়, যাকে নিখুঁত পালিশের মাধ্যমে আসল সোনার রূপ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে এই ধাতু প্রতি গ্রাম মাত্র ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু চোরাপথে ভারতে আসার পর এটি হাজার হাজার টাকায় আসল সোনার নামে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
চেনার উপায় কি?
এই নকল সোনা বাহ্যিকভাবে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও এতে কোনো সরকারি শংসাপত্র থাকে না। এই গয়নাগুলোতে বিআইএস (BIS) হলমার্ক বা এইচইউআইডি (HUID) কোড থাকে না। এমনকি এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স (XRF) পরীক্ষাতেও এই সোনা উত্তীর্ণ হতে পারে না। তবে সাধারণ দৃষ্টিতে একে চেনা প্রায় অসম্ভব।
প্রতারণা এড়াতে যা করবেন:
১. হলমার্ক যাচাই: সর্বদা অনুমোদিত ডিলার বা নামী জুয়েলারি শপ থেকে সোনা কিনুন। গয়নার গায়ে খোদাই করা ৬ সংখ্যার HUID কোড এবং BIS সিল অবশ্যই পরীক্ষা করুন। এটি ‘BIS Care App’-এর মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব।
২. অ্যাসিড টেস্ট: বাড়িতে বসে আসল সোনা চিনতে নাইট্রিক অ্যাসিড ব্যবহার করতে পারেন। নাইট্রিক অ্যাসিড আসল সোনার সংস্পর্শে এলে কোনো প্রতিক্রিয়া করে না, কিন্তু নকল সোনা বা সংকর ধাতু হলে তা তৎক্ষণাৎ সবুজ বর্ণ ধারণ করবে।
নিজে সচেতন হোন এবং সস্তার লোভে পড়ে কষ্টার্জিত টাকা প্রতারকদের হাতে তুলে দেবেন না।





