সাধারণ মানুষের পকেটে ফের টান! আবারও বাড়ল সিএনজির দাম, কলকাতায় কত খরচ?

আবারও সাধারণ মধ্যবিত্তের বাজেটে বড় ধাক্কা। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আঁচ সরাসরি গিয়ে পড়ল সাধারণ মানুষের পকেটে। মঙ্গলবার সকাল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে আবারও বাড়ল সিএনজি বা কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাসের দাম। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এই নিয়ে চতুর্থবার দাম বাড়াল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি।

নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিএনজি প্রতি কেজিতে ২ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কলকাতায় এখন প্রতি কেজি সিএনজির দাম দাঁড়িয়েছে ৯৩ টাকা ৫০ পয়সা। রাজধানী দিল্লির তুলনায় কলকাতার এই দাম প্রায় ১০ টাকা বেশি। গত ১১ দিনে ৪ বার এবং ৯ দিনে ৩ বার যেভাবে সিএনজির দাম বেড়েছে, তাতে পরিবহন ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি নিত্যযাত্রীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। উল্লেখ্য, গত রবিবার ও শুক্রবার প্রতি কেজিতে ১ টাকা করে এবং ১৫ মে ২ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে ১৫ মে থেকে দিল্লিতে সিএনজির দাম বেড়েছে মোট ৭ টাকা।

তবে সাধারণ মানুষের জন্য সাময়িক স্বস্তির খবর হলো, আপাতত রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়নি। বাড়িতে সরবরাহ করা পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG) বা রান্নার এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কোনো পরিবর্তন না আনায় কিছুটা হলেও রক্ষা পেয়েছেন সাধারণ গৃহস্থ।

এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রুট ‘হরমুজ প্রণালী’-তে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৭২ ডলার থেকে বেড়ে ৮৬ ডলারে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারের এই বাড়তি খরচের বোঝা এখন গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

সিএনজির দাম বাড়ার মাত্র তিন দিন আগেই দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। চলতি মাসে এই নিয়ে তিনবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেল। বর্তমানে কলকাতায় পেট্রোলের দাম ১১৩ টাকা ৫১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯৯ টাকা ৮২ পয়সা প্রতি লিটার। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক যদিও আশ্বস্ত করেছে যে, ভারতে জ্বালানির পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় খুচরো বাজারে দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না বলে সংস্থাগুলির দাবি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিএনজির এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির ফলে অটোর ভাড়া বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যাতায়াত খরচ বাড়লে তার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও খাদ্যসামগ্রীর দামের ওপরও, যা শেষ পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। এখন দেখার, এই জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার আগামী দিনে কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নেয় কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy