বাঙালি মানেই বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই তালিকার অন্যতম আকর্ষণ হলো বসন্ত পঞ্চমী বা সরস্বতী পুজো। তবে এবারের সরস্বতী পুজোয় আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়ে রীতিমতো ধন্দে আমজনতা। কুয়াশা আর মেঘলা আকাশ দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন দানা বাঁধছে— তবে কি বৃষ্টির জলে ভিজবে পুজোর আনন্দ? না কি কনকনে ঠান্ডা জানান দেবে নিজের উপস্থিতি? এই সব প্রশ্নের উত্তর দিল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রার পারদ উর্ধ্বমুখী থাকবে। বুধবারের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে চলতি সপ্তাহে শীতের কামড় অনেকটাই কম অনুভূত হবে। ভোরের দিকে হালকা শিরশিরানি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদ বাড়বে এবং ঠান্ডার আমেজ কার্যত উধাও হয়ে যাবে।
পুজোয় বৃষ্টির ভ্রুকুটি? আকাশ মেঘলা থাকায় অনেকের মনেই বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সরস্বতী পুজোর দিন বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে বৃষ্টির জন্য পুজোর পরিকল্পনা মাটি হওয়ার ভয় থাকছে না। তবে পশ্চিমের জেলাগুলোতে যেমন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম বর্ধমানে হালকা শীতের আমেজ বজায় থাকতে পারে। কিন্তু কলকাতা এবং সংলগ্ন জেলাগুলোতে আবহাওয়া থাকবে তুলনামূলক গরম।
ফেব্রুয়ারিতে গরমের দাপট: আইএমডি কলকাতার রিপোর্ট অনুযায়ী, এবারের ফেব্রুয়ারি মাস স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ এবং শুষ্ক থাকতে পারে। অর্থাৎ শীত যে বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান এবং বাঁকুড়ায় ঘন কুয়াশার দত্পট বজায় থাকবে। যান চলাচলের ক্ষেত্রে এই কুয়াশা কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
সব মিলিয়ে সরস্বতী পুজোয় ভারী শীতের পোশাক ছাড়াই ঠাকুর দেখতে বেরোনো যাবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে ভোরের দিকে কুয়াশার দাপট থাকলেও বেলা গড়াতেই রোদের তেজ অনুভূত হবে।