গুজরাটের একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে মৃতের স্বজনকে পুলিশের নির্মমভাবে চড় মারার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গুজরাট পুলিশের এই অমানবিক আচরণ নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গুজরাটের একটি সরকারি হাসপাতালে, যেখানে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। মৃতের আত্মীয়রা চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মৃত ব্যক্তির এক আত্মীয় ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ এবং আবেগপ্রাপ্লুত হয়ে চিৎকার করছেন। তার আশেপাশের লোকজন তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তিনি কিছুতেই শুনছেন না।
এই পরিস্থিতিতে, সেখানে উপস্থিত একজন পুলিশ কর্মী হঠাৎ করে ওই ব্যক্তিকে একটি চড় মারেন। এর ফলে ওই ব্যক্তি আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে চিৎকার শুরু করেন। ঠিক তখনই সেখানে হাজির হন আরও একজন পুলিশ কর্মী। তিনি কোনো কিছু না ভেবেই তেড়ে যান মৃতের আত্মীয়ের দিকে এবং ঠাটিয়ে পরপর বেশ কয়েকটি চড় মারতে শুরু করেন। এই দৃশ্যে পুলিশের নির্মমতা এতটাই স্পষ্ট যে, এটিকে ‘চড়ের বন্যা’ বললেও অত্যুক্তি হয় না।
ভাইরাল ভিডিও এবং গণরোষ
পুলিশের এই ন্যাক্কারজনকভাবে মারধরের ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে ক্যামেরাবন্দি হয় এবং দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষ এবং নেটিজেনদের মধ্যে গুজরাট পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন উঠেছে, একজন শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে শান্ত করার জন্য পুলিশ কেন এমন বর্বর পথ বেছে নিল।
মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পুলিশি ভূমিকা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে কোনো ব্যক্তিকে শারীরিক নির্যাতন করা শুধু অমানবিকই নয়, এটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে পুলিশের কাজ হলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শারীরিক নির্যাতন করা নয়। একজন ব্যক্তির দুঃখ ও ক্ষোভকে এমনভাবে দমন করার চেষ্টা পুলিশের নৈতিকতার পরিপন্থী।
এই ঘটনায় গুজরাট পুলিশকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। অনেকেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।