কোচবিহারের শীতলকুচির নগর সিঙ্গিমারি এলাকা বুধবার রাতে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। গোলেনাওহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে গভীর রাতে এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে হাজির হন এক অঞ্চল সহায়ক। আর এই ঘটনা জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীরা তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন। সরকারি নথি কেন রাতের অন্ধকারে ব্যক্তিগত বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো, তা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে বিতর্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অঞ্চল সহায়ক আবুল ছালাম মিয়া বুধবার গভীর রাতে গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা মফিদুল মিয়ার বাড়িতে পৌঁছান। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে দরজা বন্ধ করে সেখানে নথিপত্র নিয়ে কোনো কাজ চলছিল। বিষয়টি টের পেতেই এলাকাবাসী এবং স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। উপস্থিত জনতা ও বিজেপি কর্মীদের দাবি, পঞ্চায়েতের দুর্নীতি ঢাকতে বা প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই রাতের অন্ধকারে এই নথিপত্র সরানো হচ্ছিল।
ঘটনায় বিজেপির ৬ নম্বর মণ্ডল সভাপতি পুলিন বর্মন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অঞ্চল অফিসের সরকারি নথিপত্র এভাবে তৃণমূল নেতার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার একটাই উদ্দেশ্য হতে পারে—প্রমাণ লোপাট করা। সংশ্লিষ্ট তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আমরা চাই, প্রশাসন এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করুক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিক।” স্থানীয় বাসিন্দা কেশব হাজরাও একই প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, কাউকে না জানিয়ে, সকলের চোখের আড়ালে গভীর রাতে সরকারি নথি নিয়ে কেন ওই নেতার বাড়িতে যাওয়া হলো, তার সদুত্তর নেই অভিযুক্তর কাছে।
এদিকে, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা মফিদুল মিয়ার স্ত্রী কাজলী খাতুন অবশ্য এই দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, “ওই কর্মী আগে কখনো আমাদের বাড়িতে আসেননি। কোনো ফোন না করেই তিনি আচমকা এসেছিলেন। আমার স্বামীর সঙ্গে তাঁর বর্তমানে কোনো সম্পর্ক নেই।”
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শীতলকুচি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ অভিযুক্ত অঞ্চল সহায়ক আবুল ছালাম মিয়াঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি নথি নিয়ে যাওয়াকে তাঁর ‘ভুল’ বলে স্বীকার করে নিলেও, ঠিক কী কারণে বা কার নির্দেশে সরকারি নথিপত্র তিনি তৃণমূল নেতার ব্যক্তিগত বাসভবনে নিয়ে গিয়েছিলেন, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। শীতলকুচি থানার পুলিশ জানিয়েছে, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি নথি ব্যক্তিগত বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পেছনে কোনো বড় ধরনের চক্রান্ত বা দুর্নীতির যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরেই পরিষ্কার হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে শীতলকুচির নগর সিঙ্গিমারি এলাকায় রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। পঞ্চায়েতের অন্দরের কোনো দুর্নীতির নথি কি তবে লোপাট করার চেষ্টা চলছিল? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।





