পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের রাজনীতির অন্দরমহলে বড়সড় ভূমিকম্প! সরকারি ত্রাণ ও প্রকল্পের সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন আসানসোল পুরনিগমের ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তরুণ চক্রবর্তী। সোমবার রাতে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ ডামরা এলাকায় তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনা রাজ্যে পরিবর্তনের পর আসানসোল পুরনিগমে কোনো কাউন্সিলরের গ্রেফতারির প্রথম ঘটনা, যা নিয়ে সরগরম গোটা রাজ্য।
পুলিশি সূত্রে খবর, কাউন্সিলরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৩২টি সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ, বর্ষাকালে অসহায় গরিব মানুষদের ত্রাণের জন্য এই ত্রিপলগুলি সরকারিভাবে বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলি দুঃস্থদের হাতে না পৌঁছে ঠাঁই পেয়েছিল কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত গুদামে। সরকারি সম্পদ নিজের বাড়িতে মজুত করার এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরেই আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা বর্তমান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ইডিকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছিলেন যে, তরুণ চক্রবর্তী অবৈধ বালি পাচারে মদত দিচ্ছেন। অগ্নিমিত্রা পালের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, ডামরা এলাকায় দামোদর নদীর ঘাট থেকে বালি মাফিয়াদের সাথে হাত মিলিয়ে কাউন্সিলর বড়সড় আর্থিক দুর্নীতি চালাচ্ছেন। শুধু বালি পাচার নয়, কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তোলা, তোলাবাজি এবং সরকারি সুবিধা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ বহুদিনের।
অথচ, একসময় এই তরুণ চক্রবর্তীই আসানসোল পুরনিগমের নির্বাচনে সাইকেল চালিয়ে প্রচার করে সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছিলেন। কাউন্সিলর হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দমনপীড়নের অভিযোগও উঠে আসছিল বারবার। অগ্নিমিত্রা পাল যখন বিরোধী বিধায়ক হিসেবে নিজের এলাকায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছেন, তখন এই তরুণ চক্রবর্তীর বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার সকালে ধৃত কাউন্সিলরকে আসানসোল আদালতে তোলা হয়। পুলিশ ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করে এই দুর্নীতির সাথে আর কারা যুক্ত এবং ঠিক কত টাকার সরকারি সম্পত্তি তছরুপ হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে আসানসোল দক্ষিণ থানা। আদালতের পথে বারবার প্রশ্ন করা হলেও তরুণ চক্রবর্তী কোনো উত্তর দেননি। এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অস্বস্তি যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।





