শেষ পর্যন্ত আত্মগোপন করেও রক্ষা পেলেন না বাদুড়িয়া পুরসভার তৃণমূল পরিচালিত পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। সরকারি ত্রাণ সামগ্রী লোপাট এবং তথ্যপ্রমাণ ধ্বংস করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি। দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা এলাকাছাড়া থাকার পর, সোমবার রাতে বাদুড়িয়া থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন আস্তানায় হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
গত রবিবার গভীর রাতে বাদুড়িয়ার পুড়া এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের ব্যক্তিগত দলীয় কার্যালয় এবং একটি নির্জন বাগান বাড়ি থেকে প্রায় ৪ হাজার সরকারি ত্রিপল ও লাঠি উদ্ধার করেছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা রাতের অন্ধকারে ভ্যানে করে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী পাচার হতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। অভিযোগ ওঠে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেতেই কার্যালয়ের সামনে স্তূপ আকারে সরকারি নথিপত্র পুড়িয়ে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের মরিয়া চেষ্টা চালানো হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পুরপ্রধান গা-ঢাকা দেন। তাঁর বিরুদ্ধে বাদুড়িয়া থানায় সুনির্দিষ্ট ধারায় দু’টি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশি তদন্ত যত গভীরে পৌঁছাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে দুর্নীতির একের পর এক নতুন দিক। সোমবার রাতে দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের আরও একটি গোপন ডেরায় অভিযান চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে নগদ ৮০ লক্ষ টাকা এবং আরও বেশ কয়েকটি বান্ডিল সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করা হয়েছে। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত অন্য একটি আস্তানা থেকে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে পুলিশ নিজেদের কব্জায় নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আর্ত মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণ সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মজুত করা হচ্ছিল। অভিযোগ, এই ত্রাণ বাইরে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়ার ছক ছিল। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাও সেই দুর্নীতিরই লভ্যাংশ বলে মনে করছে বিরোধী রাজনৈতিক মহল। সরকারি ত্রাণ চুরির পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া ৮০ লক্ষ টাকার উৎস কী এবং এর পেছনে আর কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখতে ধৃত পুরপ্রধানকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। শাসক দলের হেভিওয়েট নেতার এই গ্রেফতারি যে আগামী দিনে আরও বড় আইনি জট তৈরি করতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।





