প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি আবারও আছড়ে পড়ল চিলিতে। মঙ্গলবার চিলির উত্তরাঞ্চলীয় কালামা শহরে আঘাত হানল ৬.৯ তীব্রতার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ৬.৯ হওয়ায় আন্তর্জাতিক ভূবিজ্ঞান মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত ‘রিং অফ ফায়ার’-এর অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চলে হওয়ায় দেশটি বরাবরই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। এদিনের এই শক্তিশালী কম্পনটি দীর্ঘ প্রায় ২০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্কের সঞ্চার করে।
ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল কালামা শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৯ কিলোমিটার নিচে। আন্টোফাগাস্তা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ অংশে এই কম্পনের প্রভাব অনুভূত হয়েছে। মাটি কেঁপে ওঠার মুহূর্তে আতঙ্কিত মানুষজন তাদের কর্মস্থল, অফিস এবং ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রাণভয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। সরকারি ও বেসরকারি ভবনে দ্রুত ইভাকুয়েশন বা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই স্পষ্ট করে।
ভূমিকম্পের তীব্রতা ৬.৯ হওয়ার কারণে প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল। তবে চিলির জাতীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বড় কোনো ভবন ধস বা ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। উদ্ধারকারী দল এবং জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এই ধরণের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আফটারশকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিলি পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত নড়াচড়ার ফলে এখানে মাঝেমধ্যেই বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। আজকের এই দুর্যোগ আবারও সেই পুরনো অভিজ্ঞতাকে মনে করিয়ে দিল। ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য আধুনিক প্রস্তুতি এবং জনসচেতনতা যে কতটা জরুরি, তা এই ঘটনা থেকে আবারও স্পষ্ট। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখছে। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, তবে দীর্ঘ ২০ সেকেন্ডের এই প্রলয়ঙ্করী অভিজ্ঞতা সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। আন্তর্জাতিক মহল চিলির এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।





