রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিউডের অন্দরেও যেন হাওয়ার বদল। একসময়ের শাসকদলের ঘনিষ্ঠ অনেক তারকা এখন নতুন সরকারের প্রতি তাদের আস্থা প্রকাশ করছেন। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন সাংসদ-অভিনেতা দেব। শুক্রবার এক ছবির প্রিমিয়ারে এসে নতুন সরকারের কার্যকারিতা এবং টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করলেন তিনি।
নতুন সরকারকে এক বছর সময় দেওয়ার পক্ষে দেব: সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেব বলেন, “সরকারের প্রতি বাংলার মানুষের যেমন বিশ্বাস আছে, আমারও তেমনই আছে। তবে সরকার চালানো কোনো সহজ কাজ নয়। এক মাসে সবকিছুর ফলাফল পাওয়া সম্ভব নয়। যে কোনো সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে এবং তার সুফল পেতে অন্তত এক বছর সময় দেওয়া উচিত।” অভিনেতা আশাবাদী যে, আগের সরকারের আমলে ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, নতুন সরকারের জমানায় তা আর হবে না।
স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে সংশয়: গত সরকারের আমলে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড নিয়ে দেবের সঙ্গে ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের মতভেদ ছিল চর্চার বিষয়। টেকনিশিয়ানদের এই কার্ডের আওতায় আনতে গিয়ে দেবকে বহু বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। নতুন সরকার আসায় অনেকেই ভেবেছিলেন এই প্রকল্প হয়তো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দেব কিছুটা সতর্ক প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানান, “এই বিষয়ে আমি এখনই কিছু বলতে পারছি না। নতুন সরকার এক মাসও হয়নি ক্ষমতায় এসেছে, তাদের সময় দেওয়া উচিত। সব সিস্টেম নতুন করে সাজানো হচ্ছে। আমার বিশ্বাস, এই সরকার ভালো কাজ করবে।”
ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন সুযোগের আশা: দেব মনে করেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে কাজের পরিবেশও উন্নত হবে। টলিউডে কাজের সুযোগ বাড়বে এবং টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে সমস্ত কলাকুশলীরা নতুন সরকারের অধীনে সঠিক মূল্যায়ন পাবেন। সবশেষে, নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অভিনেতা স্পষ্ট করেছেন যে, রাজ্যের উন্নতির স্বার্থে সরকারকে ধৈর্য ধরে কাজ করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে দেবের এই অবস্থান কি টলিউডের রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে? তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে চলচ্চিত্র মহলে।





