মৃত্যুর দোরগোড়া থেকে এক যুবককে ফিরিয়ে এনে খবরের শিরোনামে এখন সুরাট পুলিশের কনস্টেবল শৈলেশ চুডাসামা। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সপ্তম তলার ফ্ল্যাটে জানালা দিয়ে প্রবেশ করে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে তিনি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন।
কী ঘটেছিল? ঘটনাটি গত ৮ জুন সুরাটের লাসকানা এলাকার। পুলিশের কাছে খবর আসে, এক গৃহবধূ জরুরি নম্বরে ফোন করে জানান যে তার স্বামী বিষাক্ত কিছু খেয়ে ফ্ল্যাটের ভেতরেই তালাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন বুঝতে পেরে লাসকানা থানা থেকে দ্রুত পুলিশ টিম, দমকল বাহিনী এবং অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধারকাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারীরা দেখেন, ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে পুরোপুরি তালাবদ্ধ। সময় নষ্ট করলে যুবকের প্রাণ বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়বে—এই উপলব্ধি থেকে কনস্টেবল শৈলেশ চুডাসামা ও চালক কৃপাল সিং গোহিল এক দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত নেন। কনস্টেবল শৈলেশ ভবনের বাইরের নিরাপত্তা গ্রিল বেয়ে সপ্তম তলার জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এক মুহূর্তের জন্য পা পিছলে গেলেই নেমে আসত নিশ্চিত মৃত্যু, কিন্তু সাহসিকতার সাথে তিনি সেই ঝুঁকি নেন।
চরম সংকটে পুলিশই ভরসা ভেতরে ঢুকে শৈলেশ দেখেন, যুবকটি বিষাক্ত দ্রব্য সেবনের ফলে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন এবং বমি করছেন। শৈলেশ তড়িঘড়ি তার কাছ থেকে বাকি বিষাক্ত পদার্থ সরিয়ে ফেলে প্রাথমিক সহায়তা শুরু করেন। অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা না করে, পুলিশ দ্রুত যুবকটিকে নিচে নামিয়ে নিজেদের গাড়িতে করে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে অ্যাম্বুলেন্সের সাথে দেখা হলে তাকে চিকিৎসকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি সুরাটের একটি হীরার কারখানায় কর্মরত ওই যুবক এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পুলিশের সময়োচিত পদক্ষেপ না থাকলে বড়সড় অঘটন ঘটে যেতে পারত। এই সাহসিকতার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে শৈলেশ চুডাসামার উপস্থিত বুদ্ধি এবং বীরত্ব দেখে নেটিজেনরা তাকে ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ বলে সম্বোধন করছেন।
প্রশাসনের এই তৎপরতা আবারও প্রমাণ করল, সংকটকালে পুলিশি সাহসিকতা কীভাবে একটি পরিবারকে অন্ধকারের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।





