লোকসভার শীতকালীন অধিবেশন আজ, সোমবার থেকে শুরু হতেই বিরোধীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে উত্তপ্ত থাকল সংসদ। কিন্তু এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে আরও এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন কংগ্রেস সাংসদ রেণুকা চৌধুরী। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত পোষ্য কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে সংসদে প্রবেশ করেন। এই ঘটনা নিয়েই রেণুকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি সাংসদেরা।
কংগ্রেস সাংসদ রেণুকা চৌধুরীকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পাল্টা কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার পশু পছন্দ করে না। কী ক্ষতি আছে, যদি একটা ছোট্ট, নিষ্পাপ পশুকে ভিতরে আনা হয়?”
তিনি আরও দাবি করেন যে, কুকুররা একেবারেই হিংস্র নয় এবং তাঁর পোষ্যটি কেবল তাঁর গাড়ির ভিতরে তাঁকে সঙ্গ দিতে এসেছিল। এরপরই বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন, “আসলে যাঁরা সত্যিই কামড়ায় তাঁরা ভিতরে রয়েছে।”
বিজেপির তীব্র আক্রমণ, ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ
কংগ্রেস সাংসদের এই কাজের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল। তিনি বলেন, “রেণুকা চৌধুরী একটা কুকুর নিয়ে সংসদে এসেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ক্ষমতা থাকলেই তার অপব্যবহার তিনি করতে পারেন না।”
পরে বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালাও সংসদ চত্বরে রেণুকা চৌধুরীর কুকুর আনা নিয়ে তাঁর কাছ থেকে ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করেন। শেহজাদ বলেন, “তিনি (রেণুকা চৌধুরী) সংসদে একটি কুকুর নিয়ে এসেছিলেন, এবং যখন তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি বলেন যে যাঁরা কামড়ায় তাঁরা ভিতরে থাকে। তার মানে সংসদ, সংসদীয় কর্মী, সাংসদরা, তাঁর মতে কুকুর। অতীতে, অপারেশন মহাদেব এবং অপারেশন সিন্দুর নিয়ে উপহাস করার সময় তিনি আমাদের জওয়ানদের অপমান করেছেন।”
তবে সংসদীয় নিরাপত্তরক্ষীরা জানিয়েছেন, এই ক্ষেত্রে কংগ্রেস সাংসদ কোনও নিয়ম লঙ্ঘন করেননি। কারণ, গাড়ি থেকে এমন কেউ বের হননি, যাঁর বের হওয়া সংসদ চত্বরে অননুমোদিত।