দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনার শ্রেষ্ঠ মাস হলো শ্রাবণ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই মাসটি অত্যন্ত পবিত্র এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, শ্রাবণ মাসে শিবের পূজা ও জলাভিষেক করলে ভক্তের সকল মনোবাঞ্ঠা পূরণ হয় এবং অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটে। দৃক পঞ্চাঙ্গ অনুসারে, ২০২৬ সালে পবিত্র শ্রাবণ মাস শুরু হচ্ছে ৩০শে জুলাই এবং শেষ হবে ২৮শে আগস্ট, শ্রাবণ পূর্ণিমার দিনে।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, সমুদ্র মন্থনের সময় উঠে আসা হলাহল বিষ পান করে মহাদেব যখন সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলেন, তখন তাঁকে শীতল করতে দেবতারা জল নিবেদন করেছিলেন। সেই থেকেই শ্রাবণ মাসে শিবলিঙ্গে জল নিবেদনের প্রথা চলে আসছে। চলতি বছর শ্রাবণে চারটি সোমবার থাকছে— ৩, ১০, ১৭ এবং ২৪শে আগস্ট। তবে এই মাসে এমন কিছু বিশেষ তিথি রয়েছে, যা শিবের আশীর্বাদ লাভের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
শ্রাবণের গুরুত্বপূর্ণ তিথি ও উৎসব:
সোম প্রদোষ ব্রত (১০ই আগস্ট): শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবার এবং সোম প্রদোষ ব্রতের বিরল সংযোগ এই দিনটিকে অত্যন্ত শুভ করে তুলেছে। এদিন শিবলিঙ্গে দুধ, জল ও বেলপাতা নিবেদন করলে জীবনের সমস্ত জটিলতা ও দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
সাওয়ান শিবরাত্রি (১১ই আগস্ট): এই দিনে শিবের পূজা করা মহাশিবরাত্রির সমতুল্য ফলদায়ক। দাম্পত্য জীবনের সমস্যা দূর করতে ও সুখ-শান্তি বজায় রাখতে এদিন জলাভিষেক করা অত্যন্ত জরুরি।
হরিয়ালি তীজ (১৫ই আগস্ট): মা পার্বতীর কঠোর তপস্যার স্মারক এই উৎসবে শিবের পূজা করলে ভক্তরা কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী লাভের আশীর্বাদ পান।
নাগ পঞ্চমী (১৭ই আগস্ট): ভগবান শিবের কণ্ঠের অলঙ্কার সর্পদেবতার পূজা করার দিন এটি। এতে ভয় ও অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
ভৌম প্রদোষ ব্রত (২৫শে আগস্ট): সকল প্রকার পার্থিব বিপত্তি কাটাতে এই ব্রত পালনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
শ্রাবণ পূর্ণিমা ও রক্ষাবন্ধন (২৮শে আগস্ট): পবিত্র শ্রাবণ মাসের শেষ দিনে জলাভিষেক করলে শিবের বিশেষ কৃপা লাভ হয় বলে মনে করা হয়।
শ্রাবণ মাসে ভক্তিভরে শিবের আরাধনা করলে সংসারে সমৃদ্ধি আসে এবং মানসিক প্রশান্তি অর্জিত হয়। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে এই বিশেষ দিনগুলিতে শিবলিঙ্গে অর্ঘ্য প্রদান করলে মহাদেবের অপার করুণা বর্ষিত হবে।





