তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তৈরি হওয়া বিদ্রোহ এবার এক চূড়ান্ত ও নাটকীয় মোড় নিল। গত দুই দিন ধরে কলকাতাকে কেন্দ্র করেই যে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল, বুধবার সকালে তা এক বড়সড় ভাঙনের রূপ নিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবন থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটারের দূরত্বে বসে থাকা বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের পরিকল্পনা কার্যত অকেজো করে দিল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—কেউই এই ঝোড়ো পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকেই দলের ভেতরে যে চাপা ক্ষোভের সুর শোনা যাচ্ছিল, তা মাত্র এক মাসের মধ্যেই এমন এক বিস্ফোরক আকার ধারণ করবে, তা সম্ভবত তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব আঁচ করতে পারেননি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল ঘাসফুল শিবিরে বড় ধরনের ভাঙন ধরানোর রূপরেখা। বুধবার সকালে সেই রণকৌশল মেনেই ৫৯ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি নিয়ে বিধানসভায় পৌঁছান ঋতব্রত এবং সন্দীপন।
রাজনৈতিক অঙ্ক বলছে, তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে বর্তমানে যে ৮০ জন বিধায়ক ছিল, তাতে কোনো গোষ্ঠীকেই বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিরোধী দল’ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে ন্যূনতম ৫৩ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। সেখানে ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী সংখ্যাতত্ত্বের লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। বিধানসভায় পৌঁছে প্রথমেই বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক সারেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। এরপরই বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
তবে সূত্রের খবর, আপাতত নতুন কোনো দল তৈরির পথে হাঁটছেন না এই বিধায়করা। তাঁদের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো বিধানসভায় আলাদা একটি ‘ব্লক’ তৈরি করা। এই ব্লকের মাধ্যমে তাঁরা বর্তমান বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করতে চলেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ তৃণমূলের অন্দরে দলের দখল নেওয়ার লড়াইকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করবেন বিক্ষুব্ধ নেতারা। মমতা-অভিষেকের নাকের ডগায় বসে ঘাসফুল শিবিরের এই ভাঙন আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সমীকরণ কতটা বদলে দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





