শুভেন্দুর পা রাখার আগেই কাঁপল ফলতা! গভীর রাতে খাঁচায় পুরে ফেলা হলো জাহাঙ্গির ঘনিষ্ঠ দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতাকে

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট হতেই খোলনলচে বদলে গেছে পুলিশ ও প্রশাসনের। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতাচ্যুত হতেই রাজ্যজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা ফেরাতে কোমর বেঁধে নেমেছে পুলিশ বাহিনী। রাজনৈতিক মহলের মতে, এতদিন যে পুলিশ ছিল কার্যত ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’, সেই পুলিশই এখন রাজপথে পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করতে শুরু করেছে। আর পুলিশ হাত খুলতেই রাজ্যজুড়ে গ্রেফতার হচ্ছে একের পর এক কুখ্যাত সমাজবিরোধী ও হেভিওয়েট দুর্নীতিবাজ। এই তালিকায় এবার যোগ হলো ফলতার এক দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতার নাম, যা নিয়ে এই মুহূর্তে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তথা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে হাই-ভোল্টেজ পুনর্নির্বাচন। ঠিক তার পাঁচদিন আগেই ফলতার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সইদুল খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত সইদুল খান ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পদে আসীন ছিলেন। শুক্রবার গভীর রাতে ফলতা থানার পুলিশ এক অতর্কিত অভিযানে সইদুলের বাড়িতে হানা দেয় এবং তাঁকে হাতকড়া পরায়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি এবং এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে সাহস পায়নি পুলিশ, কিন্তু ক্ষমতা বদলাতেই ছবিটা পুরোপুরি বদলে গেছে।

প্রসঙ্গত, সইদুল খানের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়েছিল ফলতা থানায়। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে খুনের হুমকি দেওয়া— সবক্ষেত্রেই নাম জড়াত এই নেতার। কিন্তু প্রশাসনের শীর্ষ মহলের অলিখিত নিষেধাজ্ঞার কারণে সইদুলের গায়ে হাত দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না স্থানীয় থানার। শুক্রবার রাতে সমস্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে পুলিশ যখন স্বাধীনভাবে তদন্তে নামে, তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় যে সইদুলের দৌড় এবার শেষের পথে। মাঝরাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী সইদুলের বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং তাঁকে কোনও সুযোগ না দিয়েই গ্রেফতার করে লক-আপে পুরে দেয়।

এই গ্রেফতারির টাইমিং নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, আজ শনিবারই রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে আসছেন। সেই মেগা বৈঠক শেষ করেই মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি রওনা দেবেন এই ফলতার উদ্দেশ্যেই, যেখানে আজ তাঁর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রচার ও দলীয় কর্মীসভা রয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী ১৯ মে ফলতায় ভোট প্রচারের শেষ দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি মেগা রোড শো-ও হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসতেই রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার এক অভূতপূর্ব উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সইদুল খানের মতো দাপুটে নেতাদের গ্রেফতারি আসলে সাধারণ মানুষের মনে আস্থা ফেরানোর একটি বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। আগামী ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচন এবং ২৪ মে ফলপ্রকাশ। তার আগে এই মেগা গ্রেফতারি তৃণমূল শিবিরের কোমর ভেঙে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বাংলায় আর কোনও রাজনৈতিক গুন্ডাগিরি বরদাস্ত করা হবে না। ফলে সইদুলের এই শ্রীঘর যাত্রা তো কেবল ট্রেলার, আগামী দিনে তৃণমূলের কোন কোন হেভিওয়েট দুর্নীতিবাজের কপালে জেলযাত্রা রয়েছে, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy