“শুভেন্দুর জেদ আজ সফল!”— খোদ অমিত শাহের হাত ধরেই স্বপ্নপূরণ, মেদিনীপুরের ভূমিপুত্রের জন্য কী লিখলেন শাহ?

যে হাত ধরে একদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গ ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন, সেই হাতই আজ তাঁর মাথায় তুলে দিল বাংলার মুকুট। শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণা করার পর এক আবেগঘন বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মেদিনীপুর থেকে শুরু হওয়া সেই ঐতিহাসিক যাত্রার স্মৃতিচারণ করে শাহ স্পষ্ট জানালেন, “শুভেন্দুর দীর্ঘ লড়াই আজ এক চূড়ান্ত পরিণতি পেল।”

সেই ঐতিহাসিক মেদিনীপুর সভার স্মৃতি ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে মেদিনীপুরের কলেজ ময়দানে অমিত শাহের হাত থেকে বিজেপির পতাকা তুলে নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেদিন থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত ছিল। আজ যখন শুভেন্দুকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হলো, তখন সেই মুহূর্তের কথা মনে করিয়ে দিলেন শাহ। তাঁর মতে, শুভেন্দু কেবল একজন নেতা নন, তিনি এক অকুতোভয় সংগ্রামী, যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন।

শাহের টুইটে লড়াইয়ের স্বীকৃতি শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা হওয়ার পর অমিত শাহ নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “শুভেন্দু অধিকারীর সংগ্রাম আজ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। বাংলার মানুষের জন্য তাঁর ত্যাগ এবং তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন লড়াই আজ সার্থকতা পেল। তাঁর হাত ধরেই বাংলায় এক নতুন সোনালি ভোরের সূচনা হতে চলেছে।” শাহের এই মন্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন শুভেন্দুই শাহের প্রথম পছন্দ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরই শুভেন্দুর রণকৌশল এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করার ক্ষমতার ওপর ভরসা রেখেছেন। বিশেষ করে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর থেকেই শুভেন্দু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘গুড বুক’-এ উঠে এসেছিলেন। শাহের বিশ্বাস, শুভেন্দুর নেতৃত্বেই বাংলা থেকে তোষণ আর দুর্নীতির রাজনীতি চিরতরে বিদায় নেবে।

সাফল্যের নয়া শিখরে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র দিল্লির সবুজ সংকেত পাওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী এবং অমিত শাহের সেই পুরনো ছবি আবার ভাইরাল হতে শুরু করেছে। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকরা দেখছেন কীভাবে একজন হেভিওয়েট নেতার ব্যক্তিগত লড়াই আজ একটি ঐতিহাসিক জয়ে রূপান্তরিত হলো। অমিত শাহের এই সমর্থন আগামী দিনে শুভেন্দুকে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনায় আরও আত্মবিশ্বাস দেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বাংলার মসনদে এবার শুভেন্দু-যুগ, আর তাঁর পেছনে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে স্বয়ং চাণক্য অমিত শাহ। এই যুগলবন্দী বাংলার ভাগ্যে কতটা বদল আনে, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy