বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে আজ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্মরণীয় দিন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি ছিল তাঁর কেন্দ্র নির্বাচন নিয়ে। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়া শুভেন্দু শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই নিজের সংসদীয় যাত্রা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন। প্রথা মেনে আজ তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় আজ শুভেন্দু অধিকারীকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ এবং রাজনৈতিক তাৎপর্যে ভরপুর। উল্লেখ্য, ২০২৬-এর নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন। একদিকে নিজের ঘরের মাঠ নন্দীগ্রাম আগলে রাখা, আর অন্যদিকে পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক বলে পরিচিত ভবানীপুরে তাঁকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো। দুই কেন্দ্রেই তিনি জয়ী হয়ে প্রমাণ করেছেন তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব এখন রাজ্যের কোণায় কোণায় বিস্তৃত।
জয়ের পর নন্দীগ্রামের এক বিজয় সমাবেশে শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, তিনি কোন কেন্দ্রে থাকবেন বা কোন কেন্দ্রের হয়ে কাজ করবেন, তা স্থির করবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আজ তাঁর ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়া সেই জল্পনার অবসান ঘটাল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কলকাতার কেন্দ্র থেকে প্রতিনিধিত্ব করা প্রশাসনিক এবং কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
শুভেন্দু অধিকারীর এই রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে, যখন তিনি নন্দীগ্রাম থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন। যদিও পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপ-নির্বাচনে জিতে বিধানসভায় ফিরেছিলেন, কিন্তু ২০২৬-এর মেগা লড়াইয়ে ভবানীপুরে শুভেন্দুর জয় বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। এবার তিনি যেমন নন্দীগ্রামে পবিত্র করের মতো হেভিওয়েট প্রতিপক্ষকে হারিয়েছেন, তেমনই ভবানীপুরেও নিজের আধিপত্য কায়েম করেছেন।
তবে শুভেন্দু একা নন, এবারের নির্বাচনে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র নেতা হুমায়ুন কবীরও দুটি আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্রেই তাঁর জয় ছিল নজরকাড়া। শুভেন্দুর মতোই হুমায়ুন কবীরকেও একটি আসন ছাড়তে হচ্ছে। আজ ও আগামীকাল মিলিয়ে নবনির্বাচিত মোট ২৯০ জন বিধায়কের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম দিনে উত্তরবঙ্গের ৯টি জেলা সহ নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার বিধায়করা শপথ নিচ্ছেন। বিধানসভা চত্বরে আজ সাজ সাজ রব, যেখানে বাংলার ভবিষ্যতের কাণ্ডারিরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সামিল হয়েছেন।





