ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই গভীর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে দিশা দেখাতে নিজেই কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত কনভয়ের গাড়ির বহর ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যয়নৈপুণ্য এবং জ্বালানি সাশ্রয়— এই দুই লক্ষ্যপূরণেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
নিরাপত্তা অটুট, কাটছাঁট কেবল বহরে
প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষায় নিয়োজিত বিশেষ বাহিনী ‘স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ’ (এসপিজি)-কে ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে। এসপিজি সূত্রের খবর, কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা অর্ধেক করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রোটোকলে কোনও আপস করা হচ্ছে না। বরং অপ্রয়োজনীয় ব্যাক-আপ গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে প্রোটোকল অপরিবর্তিত রেখেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক গুজরাত ও অসম সফরেই মোদীর এই ‘ছোট’ কনভয়ের ঝলক দেখা গিয়েছে।
বৈদ্যুতিক যানের ওপর জোর ও সরকারি বিধিনিষেধ
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কনভয়ে এখন থেকে পেট্রোল-ডিজেলের বদলে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি (EV)-র ব্যবহার বাড়াতে হবে। তবে এর জন্য রাজকোষ থেকে টাকা খরচ করে নতুন কোনও দামি গাড়ি কেনা চলবে না। বিদ্যমান পরিকাঠামো ব্যবহার করেই এই পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিআর পাটিলও তাঁর এসকর্ট গাড়ি ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যয়সংকোচ নীতিকে সমর্থন জানিয়েছেন।
দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জরুরি আহ্বান
হায়দরাবাদে আয়োজিত এক জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন। বিদেশের মাটিতে যুদ্ধের ফলে যাতে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে টান না পড়ে, তার জন্য তিনি নাগরিকদের কাছে তিনটি বিশেষ অনুরোধ করেছেন:
১. অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা এড়িয়ে চলুন।
২. অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ করুন।
৩. জ্বালানি খরচ কমাতে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে সরকারি পরিবহণ বা ইলেকট্রিক যানের আশ্রয় নিন।
প্রধানমন্ত্রীর পথে হাঁটছেন শুভেন্দু ও অন্যান্য মুখ্যমন্ত্রীরা
মোদীর এই উদ্যোগের ঢেউ আছড়ে পড়েছে বাংলাতেও। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর নিজস্ব কনভয়ে আমূল কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জ্বালানি বাঁচাতে এবং সরকারি খরচ কমাতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পথেই হাঁটছেন। এছাড়াও রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরাও তাঁদের কনভয় ছোট করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্ব সঙ্কটের এই আবহে প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত নেতৃত্ব আগামী দিনে ভারতীয় অর্থনীতিকে কতটা সুরক্ষা দেয়, এখন সেটাই দেখার।





