শুভ নববর্ষে ‘নতুন ভোরে’র ডাক! “দিল্লির জমিদারদের আর চমকানি নয়”, হুঁশিয়ারি তৃণমূল নেত্রীর

পহেলা বৈশাখের পুণ্যলগ্নে রাজ্যবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কেবল নিছক শুভেচ্ছাবার্তাই নয়, উৎসবের আবহেও তাঁর গলায় শোনা গেল তীব্র প্রতিবাদের সুর। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে রাজ্যবাসীকে সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বঞ্চনা ও জুলুম’-এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন তৃণমূল নেত্রী।

অত্যাচারের বদলা নেওয়ার ডাক: মুখ্যমন্ত্রী এদিন সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। তাঁর কথায়, “দিল্লির জমিদাররা অনেক অত্যাচার চালিয়েছে। এজেন্সি দিয়ে বাংলার ওপর জুলুম করা হচ্ছে। আসুন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই অত্যাচারের বদলা নিই আমরা।” নববর্ষের এই দিনটিকে তিনি ‘নতুন ভোরের সূচনা’ হিসেবে চিহ্নিত করে সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

ভোটাধিকার ও চক্রান্ত ফাঁস: এদিন অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয় তুলে ধরেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে সুকৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি জানি, একটা পরিবার থেকে চারজন ভোট দিতে পারবেন, আর একজন পারবেন না। এমন অবিচার মেনে নেওয়া যায় না। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত রুখতে হবে।” ভোটাধিকার হারানোর আতঙ্কে যাঁরা আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি একে ‘গণতন্ত্রের উৎসব’-এ শামিল হয়ে মোকাবিলার ডাক দেন।

বাংলার ঐতিহ্য ও শান্তি: শুভেচ্ছাবার্তায় মমতা মনে করিয়ে দেন যে, বাংলা হলো সম্প্রীতি, সংহতি এবং সংস্কৃতির পীঠস্থান। তিনি বলেন, “দাঙ্গা নয়, রক্ত নয়—আমরা ভালোবাসার নীতিতে বিশ্বাসী।” বিজেপিকে বিঁধে তাঁর সাফ কথা, “ওরা দিল্লি থেকে চমকাচ্ছে, আর কোনও চমকানি সহ্য করা হবে না।”

উন্নয়নই হাতিয়ার: রাজ্য সরকারের ১০৫টি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাংলার মানুষ এই পরিষেবা পান। মানুষের এই ভালো থাকা সুনিশ্চিত করতেই আগামী নির্বাচনে জোড়াফুল শিবিরে ভোট দেওয়ার জোরালো আর্জি জানান তিনি।

নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘বদলা’ নেওয়ার ডাক যে রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy