দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ‘NEET’-এর প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের ঘটনায় এবার এনটিএ (NTA)-কে রীতিমতো ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার দৃষ্টান্ত টেনে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, শুধু সংস্কারের আশ্বাস বা কমিটি গঠন করে কোনো লাভ নেই, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সিস্টেমের খোলনলচে বদল প্রয়োজন।
UPSC-এর থেকে শিক্ষা নেওয়ার বার্তা এদিন শুনানির সময় বিচারপতি পি এস নরসিমা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, কঠোর নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রশ্নফাঁস হয়? আদালত দৃষ্টান্ত হিসেবে UPSC-এর কথা উল্লেখ করে জানায়, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মতো সম্মানজনক ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় কখনই প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটে না। সেই পরীক্ষাপদ্ধতি ও সুরক্ষা কাঠামো থেকে শিক্ষা নিতে NTA-কে পরামর্শ দিয়েছেন বিচারপতিরা।
‘দায় নিতেই হবে’ কেন্দ্রীয় সরকার ও NTA-র তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। প্রাক্তন ইসরো প্রধান ডঃ কে রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটি পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০১টি সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে ৬০টি সুপারিশ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর করা হচ্ছে। তবে আদালত কেবল এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয়। বিচারপতিদের মতে, অনিয়মের দায় নির্দিষ্টভাবে কাউকে নিতেই হবে। শুধুমাত্র কমিটি গড়ে পার পাওয়া যাবে না।
ভবিষ্যতের রূপরেখা ডঃ রাধাকৃষ্ণন আদালতে স্বীকার করেন, প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়াতেই গলদ রয়েছে। তাই আইআইটি (IIT) ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিয়ে আরও গোপনীয়তার সঙ্গে প্রশ্নপত্র তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আদালত শিক্ষা মন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছে, ভবিষ্যতে কীভাবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরাপদ উপায়ে জাতীয় স্তরের পরীক্ষা আয়োজন করা হবে, তার একটি বিস্তারিত হলফনামা ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক কাঠামোর রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
পড়ুয়াদের মানসিক যন্ত্রণার কথা শুনানির শেষে বিচারপতিরা লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া ও তাঁদের পরিবারের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে যে শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন, তাঁদের আবেগ ও কষ্টের কথা মাথায় রেখেই ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
এখন দেখার, আদালতের এই কড়া বার্তার পর কেন্দ্রীয় সরকার ও এনটিএ সত্যিই পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফেরাতে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।





