বাংলার হাজার বছরের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ধারক-বাহক যারা, সেই পারফর্মিং আর্টিস্টরা আজ অস্তিত্বের সংকটে। নাচ, গান, আবৃত্তি থেকে শুরু করে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত কয়েক লক্ষ শিল্পীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ঘনিয়ে এসেছে কালো মেঘ। অভিযোগের তির ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের (Ministry of Culture) দিকে। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক কিছু নীতি ও অনুদান সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবার সরব হলেন গৌতম হালদারের মতো বাংলার প্রথিতযশা শিল্পীরা।
কেন এই ক্ষোভ? শিল্পীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক সম্প্রতি পারফর্মিং আর্ট এবং থিয়েটার গ্রুপগুলির জন্য নির্ধারিত অনুদান বা ‘সালারো গ্র্যান্ট’-এ ব্যাপক কাটছাঁট করেছে। শুধু তাই নয়, অনুদান পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এমন কিছু জটিল শর্ত চাপানো হয়েছে, যা পালন করা বহু ছোট ও মাঝারি দলের পক্ষে অসম্ভব। শিল্পীদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্তরের লোকশিল্প থেকে শুরু করে শহরের পেশাদার নাট্যচর্চা— সবই অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়বে।
গৌতম হালদারের হুঙ্কার: জনপ্রিয় অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব গৌতম হালদার এই প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “শিল্পীরা দয়া ভিক্ষা করেন না, তাঁরা নিজেদের শ্রম দিয়ে সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখেন। সরকারের কাজ শিল্পকে উৎসাহ দেওয়া, তার গলা টিপে ধরা নয়। এইভাবে যদি অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা আর শিল্পচর্চায় আসবে না। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।”
আক্রমণের মুখে সংস্কৃতির সব ধারা: প্রতিবাদীদের মতে, এই সংকট কেবল থিয়েটারের নয়। ধ্রুপদী নৃত্যশিল্পী, লোকসংগীত শিল্পী এবং আবৃত্তিকাররাও সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সংস্কৃতি মন্ত্রকের নয়া ডিজিটাল নীতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বহু বর্ষীয়ান শিল্পীও তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবাদের মঞ্চ: ইতিমধ্যেই বাংলার শিল্পী সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বড়সড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গৌতম হালদার ছাড়াও থিয়েটার ও সংগীত জগতের আরও অনেক পরিচিত মুখ এই প্রতিবাদী মিছিলে শামিল হতে চলেছেন। তাঁদের সাফ কথা, ভারত সরকার যদি তাদের এই ‘সংস্কৃতি বিরোধী’ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তবে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে সংস্কৃতির ওপর এই আক্রমণ কি কেবল আর্থিক নীতি, নাকি এর পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে? এই প্রশ্নই এখন ভাবিয়ে তুলছে সাধারণ মানুষকে।





