“শিল্পীকে হত্যা করা হচ্ছে!” হঠাৎ কেন গান থামালেন অরিজিৎ? ফাঁস সঙ্গীত জগতের অন্ধকার দিক

সুরের জাদুকর অরিজিৎ সিং-এর প্লেব্যাক ছাড়ার ঘোষণায় যখন গোটা দেশ স্তম্ভিত, ঠিক তখনই ভাইরাল হলো তাঁর এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার। কেন তিনি কেরিয়ারের মধ্যগগনে থেকে সিনেমার গান গাওয়া থেকে অবসর নিলেন? তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে কি তবে লুকিয়ে আছে ইন্ডাস্ট্রির চরম অব্যবস্থা আর পারিশ্রমিক নিয়ে টালবাহানা? গায়কের এক পুরনো কথা এখন নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে।

“পয়সা দাও, নাহলে কাজ করিও না”: ২০২৩ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অরিজিৎ সরাসরি আঙুল তুলেছিলেন বড় প্রযোজনা সংস্থাগুলোর দিকে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, “নয়তো কাজ করিয়ে পয়সা দাও, অথবা কাজই করিও না!” অরিজিতের মতে, একজন শিল্পী যখন গান তৈরি করেন, তিনি তাঁর আবেগ আর সময় সেখানে ঢেলে দেন। কিন্তু কাজ শেষে দেখা যায়, সেই কঠোর পরিশ্রমের কানাকড়িও তাঁর হাতে আসছে না। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, প্রতিশ্রুতির চেয়ে কম পারিশ্রমিক দিয়ে আসলে একজন শিল্পীকে তিলে তিলে হত্যা করা হচ্ছে।

সিস্টেমের অভাব ও গায়কদের অনিরাপত্তা: অরিজিতের দাবি, সঙ্গীত জগতে গায়ক ও মিউজিশিয়ানদের জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা বা ‘সিস্টেম’ নেই। আগেকার দিনের সেশন রেকর্ডিং ব্যবস্থার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তখন গান গাওয়া হলেই পুরো পেমেন্ট দেওয়া হতো। কিন্তু এখনকার বিশৃঙ্খল ব্যবস্থায় সঙ্গীতশিল্পীরা একেবারেই সুরক্ষিত নন। এই আর্থিক অস্বচ্ছতাই কি তাঁকে প্লেব্যাক থেকে দূরে ঠেলে দিল? প্রশ্নটা এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

সফর শেষ হলেও সুর থামছে না: ২০১১ সালে ‘ফির মহাব্বত’ দিয়ে শুরু করে ‘তুম হি হো’-র মাধ্যমে আকাশছোঁয়া সাফল্য— অরিজিৎ সিং মানেই ছিল বক্স অফিস আর ইউটিউবে ভিউয়ের ঝড়। সম্প্রতি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ বা হিন্দি ছবি ‘ধুরন্ধর’-এ তাঁর গান জনপ্রিয়তা পেলেও, নতুন বছরে অরিজিৎ জানিয়ে দিলেন, সিনেমার জন্য তিনি আর গলা মেলাবেন না। তবে সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য সুখবর এটাই যে, তিনি স্বাধীনভাবে (Independent Music) গান তৈরি চালিয়ে যাবেন।

নিজের শর্তে বেঁচে থাকা এই শিল্পী কি তবে ইন্ডাস্ট্রির এই ‘নোংরামি’র প্রতিবাদেই সরে দাঁড়ালেন? অরিজিতের অবসর ঘোষণার পর এই বিতর্ক এখন টলিপাড়া থেকে বলিউড— সর্বত্র তুঙ্গে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy