শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা। সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে উদ্ধার হলো বস্তাভর্তি টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র এবং এমন সব সামগ্রী, যা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কলেজের অন্দরে পাওয়া গেল বিলাসবহুল বেডরুম, আর সেই গোপন ঘরের ভিতর থেকে মিলেছে কন্ডোমের প্যাকেট, যা শিক্ষামহলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
মঙ্গলবার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। কলেজ সূত্রে খবর, ইউনিয়নের দুই ব্যাগ থেকে মোট ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এত বিপুল পরিমাণ টাকা দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার ফলে তাতে উই ধরে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় সরাসরি আঙুল উঠেছে দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক তৃণমূল নেতার দিকে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, কলেজের ইউনিয়ন রুমকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী কার্যত নিজেদের ব্যক্তিগত আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিল।
সবচেয়ে আতঙ্কজনক বিষয় হলো, তল্লাশির সময় ইউনিয়ন রুম থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র। শিক্ষার আঙিনায় অস্ত্র ও এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের উপস্থিতি কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সূত্রের খবর, কলেজ চত্বরের একটি গোপন অংশে রীতিমতো বিলাসবহুল বেডরুম তৈরি করা হয়েছিল, যার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা কোনো অভিজাত হোটেলের চেয়ে কম নয়। ইউনিয়ন রুমের এই গোপন বেডরুম কারা ব্যবহার করত, কাদের মদতে এখানে অসামাজিক কার্যকলাপ চলত, তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে।
ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। কলেজের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ইউনিয়ন রুমে যাদের যাতায়াত ছিল, তাদের নাম সংগ্রহের কাজ চলছে। এই ঘটনার পর কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দাদাগিরির চূড়ান্ত নিদর্শন সামনে এসেছে। দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় পুরো শিক্ষাজগতে অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।





