বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য। রবিবার নিউটাউনের সুলংগুড়ি দক্ষিণপাড়া এলাকার একটি খালের ধার থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হলো কয়েকশো আধার কার্ড। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলি তাঁদের এলাকারই লোকজনের। কিন্তু কেন এবং কীভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ নথি খালের ধারে এল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
বস্তা খুলতেই বেরিয়ে এল আধার কার্ডের পাহাড়!
ঘটনাটি ঘটেছে রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রের জ্যাংড়া হাতিয়ারা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। গৌরাঙ্গনগরের বাসিন্দারা এদিন খালের ধারে একটি পরিত্যক্ত বস্তা দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় বস্তা খুলতেই দেখা যায়, তার ভেতরে গাদা গাদা আধার কার্ড। খবরটি জানাজানি হতেই মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়।
বিএলও-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলি খতিয়ে দেখার পর স্থানীয়রা অবাক হয়ে দেখেন, কার্ডগুলি সুলংগুড়ি দক্ষিণপাড়া এলাকারই বাসিন্দাদের। এক বাসিন্দা অভিযোগের সুরে বলেন, “এগুলো আমাদের পাড়ারই মানুষের কার্ড। প্রায় ৩০০-র বেশি কার্ড রয়েছে। এসআইআর (SIR) কাজে নিযুক্ত স্থানীয় বিএলও (BLO) এই কার্ডগুলো ফেলে দিয়ে গেছেন বলে আমাদের সন্দেহ।” এই অভিযোগে ইতিমদ্যেই থানায় খবর দিয়েছেন বাসিন্দারা।
পুরানো এসআইআর প্রক্রিয়া ও অনুপ্রবেশ আতঙ্ক
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে বাংলায় শুরু হওয়া এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। সেই সময় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের এলাকা ছাড়ার খবর এবং সীমান্তে ভিড় জমার প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল। নিউটাউনে উদ্ধার হওয়া এই কার্ডগুলোর সঙ্গে সেই প্রক্রিয়ার কোনো যোগ আছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তবে স্থানীয়দের দাবি, কার্ডগুলো তাঁদের প্রতিবেশীদেরই।
তদন্তে পুলিশ
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউটাউন থানার পুলিশ। পুলিশ আধার কার্ডগুলি উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছে। একজন সরকারি কর্মী হয়ে কেন বিএলও বা অন্য কেউ এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি এভাবে ফেলে দেবেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বড় মাথা কাজ করছে— সবটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নির্বাচনের আগে ভোটার কার্ড বা আধার কার্ড নিয়ে এই ধরণের ঘটনা এলাকার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।





