লক্ষ্মীর ভান্ডার বনাম অন্নপূর্ণা: বিজেপির ৩০০০ টাকার প্রতিশ্রুতিকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে তুলোধোনা মমতার

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে উঠতেই তপ্ত বীরভূমের মাটি। সোমবার সিউড়ির জনসভা থেকে সুর চড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার—একাধিক ইস্যুতে বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করলেন তিনি। এদিন বীরভূমের সভা থেকে ভোটারদের উদ্দেশে এক চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিজেপির কাছ থেকে টাকা নেবেন না। ওরা প্রথমে অ্যাকাউন্টে টাকা দেবে, তারপর বলবে ওটা কালো টাকা! আর তার পরেই বাড়িতে ইডি-সিবিআই পাঠিয়ে কেস দেবে।”

বিজেপির ঘোষিত ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্পকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “তৃণমূল কখনও ভোটের আগে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয় না। আমরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের কথা দিয়েছিলাম এবং তা পালন করেছি। ওরা ৩,০০০ টাকা দেওয়ার কথা বলছে, কিন্তু আগে কখনও ১,০০০ টাকাও দিয়েছে?” বিহারের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, ভোট মিটে গেলেই বিজেপি প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়।

কর্মসংস্থান নিয়েও কেন্দ্রকে একহাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, “১২ বছরে ২ কোটি চাকরি কোথায় গেল? রেলওয়েতে গ্যাংম্যান পদ তুলে দেওয়া হয়েছে, সেনাবাহিনীতে নিয়োগ বন্ধ। আর রাজ্য সরকার যখনই চাকরির উদ্যোগ নেয়, তখনই ওরা মামলা করে আটকে দেয়।” এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘২৯৪ আসনের প্রার্থী’ হওয়ার দাবির পাল্টা দিয়ে মমতা বলেন, “তাহলে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিন। আগে দিল্লি সামলান, তারপর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখুন। আপনি বাংলার বহিরাগত।”

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, ষড়যন্ত্র করে ৬০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ৩২ লক্ষ নাম ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সবশেষে বিজেপির হিন্দুত্বকে ‘বিষগাছ’ বলে আক্রমণ করে মমতা স্পষ্ট জানান, তাঁর ধর্ম শুধুই ‘মানবতা’।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy