লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বড় ধামাকা! একধাক্কায় কি ১৮০০ টাকা বাড়বে অনুদান? ৫ই ফেব্রুয়ারির বাজেট ঘিরে তোলপাড় বাংলা!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এখন কার্যত শিয়রে। আর এই হাইভোল্টেজ ভোটের আগে শেষ ‘ফুল-ফ্লেজেড’ বাজেট বা ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ পেশ করতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। আগামী ৫ই ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় পেশ হতে চলা এই রাজ্য বাজেটকে ঘিরেই এখন রাজ্যজুড়ে কোটি কোটি মহিলার মনে একটাই প্রশ্ন— ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা কি ফের বাড়তে চলেছে? যদি বাড়ে, তবে সেই অঙ্কটা ঠিক কত হবে?

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং বড় চমকের ইঙ্গিত: ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিস্কপ্রসূত এই প্রকল্প বর্তমানে রাজ্যের জনপ্রিয়তার শীর্ষে। বর্তমানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা প্রতি মাসে ১০০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১২০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পান। গত বছরের বাজেটেও এই ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করে বড় চমক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, আসন্ন ভোটকে পাখির চোখ করে এবারও বড়সড় কোনও মাস্টারস্ট্রোক দিতে পারেন তিনি।

১৮০০ টাকার অংক কি বাস্তব? সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান একধাক্কায় বাড়িয়ে ১৮০০ বা ২০০০ টাকা করা হতে পারে। যদিও নবান্ন বা অর্থ দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়েনি, তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মহিলা ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে ভাতার পরিমাণ অন্তত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা অস্বাভাবিক নয়। যদি ৫০০ টাকাও বাড়ে, তবে সাধারণ শ্রেণি পেতে পারেন ১৫০০ টাকা এবং এসসি/এসটি মহিলারা ১৭০০ টাকা। ১৮০০ বা ২০০০ টাকার জল্পনা সফল হলে তা হবে রাজ্যের অর্থভাণ্ডারের জন্য এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।

বাজেটে কেন এত গুরুত্ব? রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২.২১ কোটি মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এর জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৯,৩৮৫ কোটি টাকা। নির্বাচনের আগে এই বিশাল সংখ্যক মহিলার মুখে হাসি ফোটানো মানেই নিশ্চিত এক বড় ভোটব্যাঙ্ক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার প্রতি ‘বঞ্চনার’ অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজ্য বাজেটে জনমোহিনী প্রকল্পের বন্যা বইয়ে দিতে পারেন।

কী কী পরিবর্তন আসতে পারে? টাকা বৃদ্ধির পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নতুন আবেদন গ্রহণ এবং যারা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের সমস্যা মেটাতে বিশেষ সেল গঠনের ঘোষণাও থাকতে পারে এই বাজেটে। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যে মহিলারা এখনও ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প বা বিডিও অফিসে আবেদন করতে পারেননি, তাঁদের জন্যও বড় ঘোষণা আসতে পারে ৫ই ফেব্রুয়ারি।

বাংলার নারী সমাজ এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে নবান্নের দিকে। ৫ই ফেব্রুয়ারি দুপুরবেলা বিধানসভায় বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (বা খোদ মুখ্যমন্ত্রী) যখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে মুখ খুলবেন, তখনই পরিষ্কার হবে— বাংলার মহিলাদের ভাগ্য ১৮০০ টাকার দিকে ঘুরছে কি না!

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy