রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালুর প্রক্রিয়া শুরু হতেই অস্বস্তিতে শাসকদল। এই যোজনার জন্য পুরনো ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই করতে গিয়েই চন্দ্রকোণার মনোহরপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গেল, মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট এই প্রকল্পের উপভোক্তার তালিকায় নাম রয়েছে এক তৃণমূল নেতার!
ঘটনার সূত্রপাত: সোমবার তালিকাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। দেখা যায়, মনোহরপুরের এক তৃণমূল নেতার নাম লক্ষ্মীর ভান্ডারের তালিকায় রয়েছে। বিজেপি নেতা ও কর্মীদের অভিযোগ, মহিলাদের প্রকল্পে একজন পুরুষ নেতার নাম কী করে থাকতে পারে? এটি তৃণমূলের দুর্নীতি ও স্বজনপোষণেরই প্রমাণ বলে দাবি করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
কী বলছেন অভিযুক্ত নেতা? তালিকায় থাকা তৃণমূল নেতা উত্তম কুমার সাউ জানান, তাঁর স্ত্রী মুনমুন সামন্ত সাউ ২০২১ সালে ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পে লক্ষ্মীর ভান্ডারের জন্য আবেদন করেছিলেন। এরপর থেকে নিয়ম মেনে তাঁর স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে। কিন্তু তালিকায় তাঁর স্ত্রীর পরিবর্তে স্বামীর নাম কেন এল, তা নিয়ে তিনি সম্পূর্ণ ধোঁয়াশায়। ঘটনাটি জানাজানি হতেই উত্তমবাবু চন্দ্রকোণা-১ বিডিও অফিসে গিয়ে নিজের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, “আমরা কখনোই পুরো তালিকা খতিয়ে দেখিনি। এটা কোনো বড়সড় ভুল, যারা দায়িত্বে ছিল তারাই ভালো বলতে পারবে।”
প্রশাসনের সাফাই: এ বিষয়ে চন্দ্রকোণা-১-এর বিডিও কৃষ্ণেন্দু বিশ্বাস জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্ভবত টেকনিক্যাল কোনো ত্রুটির কারণে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পঞ্চায়েত প্রধান মাধুরী সিংহ দোলই-ও একই সুর মিলিয়ে বলেন, ২০২১ সালে আবেদনের ব্যাপক চাপে ভুলবশত এমনটা হতে পারে। বিজেপির তরফে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোটের পর নতুন সরকারের আমলে পুরনো প্রকল্পের তালিকা যাচাই করতে গিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিছকই ‘টেকনিক্যাল ভুল’ নাকি এর পেছনে বড় কোনো কারসাজি রয়েছে, তা নিয়ে এখন সরগরম স্থানীয় রাজনীতি।





