লক্ষ লক্ষ ভক্তের ‘মিলনমেলা’ এই পুজো! বাতাসা মেলা থেকে কী কী অলৌকিক বিশ্বাস জড়িয়ে বোল্লা মন্দিরের সঙ্গে?

দীপান্বিতা অমাবস্যার কালীপুজো শেষ। কিন্তু এই বাংলাতেই এখন শুরু হয়েছে নতুন করে কালীপুজোর প্রস্তুতি! উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী ‘বোল্লাকালী’ পূজা উপলক্ষে এখন উৎসবের মেজাজ দক্ষিণ দিনাজপুর জুড়ে। জেলার সদর শহর বালুরঘাট থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরের বোল্লা গ্রামে প্রতি বছর রাসপূর্ণিমার পরের শুক্রবারে এই বৃহৎ পূজা আয়োজিত হয়।

শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই প্রথা শুধু ধর্মীয় পীঠস্থানই নয়, এটি উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম কালীপুজোর কেন্দ্রও বটে। এই চার দিনব্যাপী পুজো ও বিশাল মেলাই যেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

১৪ কেজি সোনা ও হিরের আংটিতে সেজে ওঠেন দেবী

বোল্লাকালীর মহিমা যুগে যুগে অটুট! বর্তমানে সাত হাত উঁচু এই মাতৃমূর্তি পূজিত হন রাজকীয় সাজে। দেবীকে সাজানো হয় প্রায় ১৪ কেজি সোনার অলঙ্কারে

গত বছর সেই সাজে নতুন সংযোজন হয়েছে হিরের আংটি। তিন ভরি সোনায় তৈরি এই আংটিতে বসানো রয়েছে তিনটি বড় মাপের হিরে। দেবীমূর্তি যখন এই স্বর্ণালঙ্কারে সজ্জিত হয়ে ওঠেন, তখন তা দেখতে হাজার হাজার ভক্ত ভিড় করেন।

কেন এই পুজো হয় রাসপূর্ণিমার পরের শুক্রবারে?

বোল্লাকালীর পুজোর প্রচলন নিয়ে একটি জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। কথিত আছে, এক গ্রামবাসী স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুকুর থেকে মা কালীর শিলাখণ্ড উদ্ধার করেন এবং নিত্যপূজা শুরু করেন।

পরবর্তীকালে, ইংরেজ আমলে স্থানীয় জমিদার মুরারিমোহন চৌধুরীর ইংরেজবিরোধী বিদ্রোহের সময় তিনি মা-র কাছে মানত করেন। সেই মানতের ফলেই রাসপূর্ণিমা-পরবর্তী শুক্রবারের বাৎসরিক পূজার প্রচলন শুরু হয়।

পুজোর প্রাণ ‘বাতাসা মেলা’, যা দেখতে আসে বাংলাদেশ থেকেও মানুষ

বোল্লা কালীপুজোর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে বিখ্যাত ‘বাতাসা মেলা’। এই মেলাটিই যেন হয়ে ওঠে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে লক্ষ লক্ষ ভক্তের মিলনক্ষেত্র।

ভাইফোঁটার পর থেকেই স্থানীয় এবং মালদহ জেলার কারিগররা এখানে ভিড় করে খাজা ও বাতাসা বানানো শুরু করেন। কয়েকদিন ধরে দিনরাত এক করে তৈরি হয় শত শত কুইন্টাল মিষ্টান্ন, যা এই মেলায় বিক্রি হয়।

শুধু দক্ষিণ দিনাজপুর নয়, দুই দিনাজপুর, মালদহ, কোচবিহার, এমনকি বাংলাদেশ থেকেও হাজার হাজার ভক্ত এসে ভিড় জমান বোল্লার মাঠে। ভক্তদের বিশ্বাস, বোল্লা রক্ষা কালী মায়ের কাছে প্রার্থনা করলে সমস্ত দুঃখ, রোগ এবং ঋণ থেকে মুক্তি মেলে।

শতাব্দীপ্রাচীন এই পুজোর মহিমা এবং ধর্ম, ঐতিহ্য ও ভক্তির এই মেলবন্ধনই বোল্লাকে বারবার পরিণত করে উত্তরবঙ্গের অন্যতম আধ্যাত্মিক রাজধানীতে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy