রেশন ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও দুর্নীতি রুখতে এবার প্রযুক্তির চরম অস্ত্র প্রয়োগ করতে চলেছে মোদী সরকার। আর লাইন দিয়ে বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ দেওয়ার ঝক্কি পোহাতে হবে না গ্রাহকদের। বদলে মোবাইলে আসা একটি ‘ডিজিটাল কুপন’ বা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই ব্যাগে আসবে মাসের রেশন। রবিবার গুজরাত থেকেই এই পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
কী এই ডিজিটাল ফুড কুপন?
এই নতুন ব্যবস্থার পোশাকি নাম— সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি (CBDC)। এটি মূলত একটি ই-ভাউচার বা ডিজিটাল মুদ্রার মতো কাজ করবে।
পাইলট প্রজেক্ট: আপাতত গুজরাতের আমেদাবাদ, আনন্দ, সবরমতী এবং ভালসাদ— এই চারটি জেলায় প্রকল্পটি শুরু হচ্ছে।
পরবর্তী লক্ষ্য: শীঘ্রই চণ্ডীগড়, পুদুচেরি এবং দাদরা ও নগর হাভেলিতেও এই পরিষেবা চালু হবে।
কীভাবে কাজ করবে এই ব্যবস্থা? (ধাপে ধাপে)
১. ডিজিটাল ওয়ালেট: মাসের প্রথম দিনেই রেশন গ্রাহকের মোবাইলে একটি ডিজিটাল ফুড কুপন পৌঁছে যাবে।
২. স্ক্যান ও ভেরিফাই: রেশন দোকানে গিয়ে সেই কিউআর কোডটি স্ক্যান করতে হবে।
৩. ওটিপি যাচাই: আধার কার্ডের তথ্যের সঙ্গে মিল থাকলে গ্রাহকের মোবাইলে একটি ওটিপি (OTP) আসবে। সেটি দিলেই কুপনটি সক্রিয় হবে।
৪. খাদ্যশস্য সংগ্রহ: ভেরিফিকেশন সফল হলে গ্রাহক চাল, গম বা অন্যান্য বরাদ্দ সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবেন।
কেন এই পরিবর্তন? ৩টি বড় সুবিধা
দুর্নীতি রোধ: এই কুপনগুলো ‘প্রোগ্রামেবল’। অর্থাৎ, এগুলি দিয়ে শুধুমাত্র অনুমোদিত রেশন দোকান থেকেই খাবার কেনা যাবে। এই কুপন কেউ চাইলে নগদে রূপান্তর করতে বা অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারবে না।
সঠিক সুবিধাভোগী: সরকার সরাসরি ট্র্যাক করতে পারবে যে প্রকৃত গ্রাহকই রেশন তুলছেন কি না। এতে ভুয়ো কার্ডের দাপট পুরোপুরি বন্ধ হবে।
আঙুলের ছাপের মুক্তি: অনেক সময় বয়স্কদের বা মেহনতি মানুষের আঙুলের ছাপ মেলাতে সমস্যা হয়। ডিজিটাল কুপন সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান।
লক্ষ্য ৮১ কোটি মানুষ
বর্তমানে PMGKAY প্রকল্পের অধীনে দেশের প্রায় ৮১ কোটি মানুষকে মাসে ৫ কেজি করে বিনামূল্যে চাল ও গম দেওয়া হচ্ছে। এই বিপুল বন্টন ব্যবস্থায় ১০০ শতাংশ স্বচ্ছতা আনাই এখন কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য।
এডিটরের টিপস: > আপনার রেশন কার্ডের সাথে মোবাইল নম্বর লিঙ্ক করা না থাকলে দ্রুত সেরে নিন, কারণ আগামী দিনে আপনার মোবাইলই হতে চলেছে আপনার ‘ডিজিটাল রেশন কার্ড’।