লোকসভা ভোটের আবহে সরগরম দেশের রাজনীতি, আর এরই মাঝে ভারতীয় রেলের একটি খবরকে কেন্দ্র করে কর্মপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শোনা যাচ্ছিল, ভারতীয় রেল নাকি এক ধাক্কায় ৩০ হাজার পদ চিরতরে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রযুক্তি এবং এআই (AI) আসার পর যখন বেসরকারি ক্ষেত্রে ছাঁটাইয়ের আতঙ্ক বাড়ছে, তখন সরকারি ক্ষেত্রেও এমন খবর চাকরিপ্রার্থীদের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
রেল মন্ত্রকের স্পষ্টীকরণ: আতঙ্ক নাকি নিছকই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া?
সম্প্রতি রেলওয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে ‘ম্যানপাওয়ার রেশনালাইজেশন’ (Manpower Rationalisation) সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, প্রায় ৩০,০০০ পদ (যা মূলত ‘নন-সেফটি’ বা অপ্রয়োজনীয় ক্যাটাগরির) চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে রেল মন্ত্রক অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে:
ছাঁটাই হচ্ছে না: বর্তমান কর্মীদের কারোর চাকরি যাবে না।
পদের পুনর্বিন্যাস: যে পদগুলো প্রযুক্তি বা বর্তমান ব্যবস্থার কারণে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে, সেই পদগুলো বিলুপ্ত করে গুরুত্বপূর্ণ ‘সেফটি’ এবং ‘অপারেশনাল’ বিভাগে নতুন পদ তৈরি করা হচ্ছে।
মোদ্দা কথা: সামগ্রিকভাবে কর্মী সংখ্যা কমানো হচ্ছে না, বরং পুরনো পদের পরিবর্তে নতুন ও প্রয়োজনীয় বিভাগে কর্মীদের স্থানান্তর (Redeployment) করা হচ্ছে।
রেল মন্ত্রকের বয়ান: “৩০,০০০ পদ বিলুপ্তির খবরটি বিভ্রান্তিকর। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বরং কয়েক হাজার নতুন পদ তৈরি করা হয়েছে, যা রেলের সুরক্ষা আরও মজবুত করবে।”
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর?
কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, আগামী ৫ থেকে ৮ বছরের মধ্যে ভারতীয় রেলের খোলনলচে বদলে ফেলা হবে। নতুন প্রযুক্তি আসার সাথে সাথে রক্ষণাবেক্ষণ এবং সুরক্ষা বিভাগে প্রচুর দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ, হুজুগে বা গুজবে কান দিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। রেল জানাচ্ছে, তাদের অনুমোদিত কর্মী সংখ্যায় কোনো নেট হ্রাস (Net Reduction) ঘটেনি।
সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ: যে কোনো বড় সংস্থায় সময়ের সাথে সাথে কাজের ধরণ বদলায়। রেলের এই পদক্ষেপ আসলে আধুনিকীকরণের একটি অংশ। তবে কর্মপ্রার্থীদের দাবি— পুরনো পদ তুলে নেওয়ার সাথে সাথে যেন নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু করা হয়।





