মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর প্রতি বছরই কৃতিদের মুখে উঠে আসে কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ের গল্প। তবে এবারের মাধ্যমিকে ষষ্ঠ স্থান দখল করে মালদহের অর্জয়িতা দাস এক ভিন্ন মন্ত্র শোনালেন। সাফল্যের জন্য বাজারচলতি চটকদার সহায়িকা বই নয়, বরং স্কুলের শিক্ষকদের দেওয়া নোট এবং পাঠ্যবই খুঁটিয়ে পড়ার ওপরই জোর দিচ্ছেন তিনি।
অর্জয়িতার মতে, অনেক সময় পরীক্ষার্থীরা সিলেবাস শেষ করার চাপে মূল পাঠ্যবই অবহেলা করে। কিন্তু পরীক্ষার প্রশ্নে খুঁটিনাটি অনেক বিষয় থাকে যা একমাত্র মূল বই পড়লেই আয়ত্ত করা সম্ভব। তাঁর এই সাফল্যের নেপথ্যে স্কুলের শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য বলে জানান তিনি।
সাফল্যের তিনটি মূল মন্ত্র শেয়ার করলেন অর্জয়িতা:
বইয়ের প্রতিটি লাইন গুরুত্বপূর্ণ: সিলেবাসের প্রতিটি অধ্যায় যেন নখদর্পণে থাকে। টেক্সট বইয়ের প্রতিটি লাইন খুঁটিয়ে পড়লে এমসিকিউ (MCQ) বিভাগে পূর্ণ নম্বর পাওয়া অনেক সহজ হয়।
শিক্ষকদের নোট ও গাইডেন্স: স্কুলের ক্লাসে শিক্ষকরা যে বিষয়ের ওপর জোর দেন এবং যে নোটগুলি দেন, সেগুলি নিয়মিত অনুশীলন করা প্রয়োজন। শিক্ষকদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
নিয়মিত রিভিশন: শুধু নতুন জিনিস পড়লেই হবে না, যা পড়া হয়েছে তা বারবার ঝালিয়ে নেওয়া সাফল্যের অন্যতম বড় মাধ্যম।
ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন এই কৃতি ছাত্রী। তিনি জানান, সাফল্যের কোনো সংক্ষিপ্ত পথ বা ‘শর্টকাট’ নেই। যারা আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চলেছে, তাদের প্রতি অর্জয়িতার বার্তা— “ভয় না পেয়ে বিষয়গুলোকে ভালোবেসে পড়তে হবে। পাঠ্যবইকে সঙ্গী করলে সাফল্য আসবেই।”
অর্জয়িতার এই টিপস এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক মনে করছেন, বর্তমান সময়ে টিউশনি আর মেটেরিয়ালের ভিড়ে অর্জয়িতার এই ‘ব্যাসিক’ পড়াশোনার ফর্মুলা অনেক পড়ুয়ার জন্যই চোখ খুলে দেওয়ার মতো।





