ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পের ইতিহাসে ২০২৬ সালের মে মাস একটি স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে। সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (SIAM)-এর তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে যাত্রী পরিবহনের গাড়ি থেকে শুরু করে দুই ও তিন চাকার যানের বিক্রি আকাশচুম্বী হয়েছে, যা বিগত সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
এক নজরে মে মাসের বিক্রির পরিসংখ্যান:
যাত্রীবাহী গাড়ি: ২৭.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪,৩৮,৮৫৪ ইউনিট।
দুই চাকার যান: বাইক ও স্কুটার মিলিয়ে মোট বিক্রি ১৪.৮ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ১৯,০২,২০৯ ইউনিটে। এর মধ্যে স্কুটার বিক্রিতে ২৭.৪ শতাংশ এবং মোপেড বিক্রিতে ৩০.৩ শতাংশের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
তিন চাকার যান: এই বিভাগে ৩১.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে মোট বিক্রির সংখ্যা ৭০,৭২০ ইউনিট।
প্রবৃদ্ধির নেপথ্যে এসইউভি-র জাদু: যাত্রীবাহী গাড়ির বিভাগে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন এসইউভি (SUV) এবং ইউটিলিটি ভেহিকল (UV) প্রেমীরা। গত বছরের তুলনায় ইউটিলিটি ভেহিকলের বিক্রি ২৪.৮ শতাংশ বেড়ে ২,৪৫,৫৪৯ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ গাড়ির বিক্রিও ২৮.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৈদ্যুতিক যানের দিকে ঝুঁকছে মানুষ: পরিবেশবান্ধব যানের চাহিদাও ক্রমশ বাড়ছে। ই-রিকশার বিক্রি ৩৮.৯ শতাংশ এবং ই-কার্টের বিক্রি ৮১.৮ শতাংশের মতো বিশাল হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নির্দেশ করে যে ভারতীয় ক্রেতারা এখন বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানের ওপরও আস্থা রাখছেন।
কেন এই রেকর্ড গড়া বিক্রি? SIAM-এর মহাপরিচালক রাজেশ মেনন এই বিশাল সাফল্যের পেছনে কয়েকটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন: ১. বাজারের প্রবল চাহিদা: গ্রাহকদের মধ্যে নতুন গাড়ি কেনার প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে। ২. সহজ অর্থায়ন: লোনের সহজলভ্যতা ও আর্থিক সুবিধা মানুষকে গাড়ি কিনতে উৎসাহিত করছে। ৩. কর কাঠামো: জিএসটি (GST) হারের সুবিধা অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। ৪. ভিত্তি বছরের প্রভাব: গত বছরের মে মাসের তুলনায় এ বছর বাজারের অবস্থান বেশ মজবুত হওয়ায় প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।
ভারতের অটোমোবাইল বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের অর্থনীতির গতিশীলতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





