অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশিত হলো মাধ্যমিক ২০২৬-এর ফলাফল। এবছর পাশের হারে গতবারের রেকর্ড ভেঙে সাফল্যের নয়া নজির গড়েছে বাংলার ছাত্রছাত্রীরা। সামগ্রিক পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৮৬.৮৩ শতাংশ। তবে সব সাফল্যকে ছাপিয়ে এখন শিরোনামে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের এক কিশোর— অভিরূপ ভদ্র। ৬৯৮ নম্বর (৯৯.৭১ শতাংশ) পেয়ে এবারের মাধ্যমিকে রাজ্যসেরার মুকুট উঠেছে তাঁর মাথায়।
প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু আকাশছোঁয়া সাফল্য চমকে দিয়েছে অভিরূপকে
রায়গঞ্জ সারদা বিদ্যামন্দির স্কুলের ছাত্র অভিরূপ ভদ্রের নাম প্রথম হিসেবে ঘোষণা হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে তাঁর পরিবার ও স্কুল। জয়ের খবর পেয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিরূপ অত্যন্ত বিনম্রভাবে জানায়, “পরীক্ষা ভালো হয়েছিল, তাই ফল ভালো হবে এমন প্রত্যাশা ছিল ঠিকই, কিন্তু একদম প্রথম হয়ে যাব— সেটা ভাবিনি।”
পড়াশোনার স্টাইল ছিল একদম ভিন্ন
সাধারণত মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রুটিন মেনে পড়ার অভ্যাস দেখা যায়। কিন্তু অভিরূপের পড়াশোনার ধরণ ছিল একেবারেই আলাদা। সে জানায়, “আমি কখনও ঘড়ি ধরে বা সময় মেপে পড়িনি। আমার পড়ার পদ্ধতি ছিল লক্ষ্যভিত্তিক (Target-based)। আগের দিন রাতে ঠিক করে রাখতাম পরের দিন কী কী শেষ করব। সেই টার্গেট পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমি থামতাম না।”
বাবাকে হারানোর অভাব পূরণ করেছেন মা
অভিরূপের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনী। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারিয়েছিলেন তিনি। অভাব আর একাকীত্বের সঙ্গে লড়াই করে মা-ই ছিলেন তাঁর একমাত্র সহায়। আবেগঘন গলায় অভিরূপ বলে, “আমার সাফল্যের সবটাই মায়ের অবদান। মা অনেক কষ্ট করে, সংগ্রাম করে আমার সব আবদার মিটিয়েছেন। পড়াশোনার গাইড করা থেকে শুরু করে সবসময় পাশে থাকা— মা-ই আমার সব।”
সাফল্যের জন্য সে তার ৯ জন গৃহশিক্ষক এবং স্কুলের শিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। স্কুলের শিক্ষকরা সবসময় তাকে উৎসাহ দিতেন বলে জানায় সে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: ইঞ্জিনিয়ারিং-এর হাতছানি
মাধ্যমিকের বাধা পেরিয়ে এবার নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিরূপ। বিজ্ঞানের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই উচ্চমাধ্যমিকে সায়েন্স নিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর আসল লক্ষ্য ইঞ্জিনিয়ারিং। ভবিষ্যতে জয়েন্ট এন্ট্রান্স (JE) পরীক্ষায় সফল হয়ে দেশের একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হতে চান এই কৃতি ছাত্র।
রায়গঞ্জের অলিগলি থেকে শুরু করে গোটা বাংলা আজ অভিরূপের এই লড়াই আর সাফল্যে গর্বিত। মায়ের আঁচল ধরা সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ নিজের মেধা দিয়ে প্রমাণ করে দিল, ইচ্ছাশক্তি থাকলে চরম অভাবও হার মানতে বাধ্য।





