দীর্ঘ রাজনৈতিক নাটক ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তামিল সুপারস্টার তথা TVK প্রধান থালাপথি বিজয়। আর সেই রাজকীয় শপথের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হলো নতুন বিতর্ক। সৌজন্যে— কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ও মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের একটি ভাইরাল ইনস্টাগ্রাম রিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্রের ‘অঙুলিহেলনে’ রহস্যজনকভাবে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে ওই জনপ্রিয় ভিডিওটি। যা নিয়ে এখন দিল্লি থেকে চেন্নাই— উত্তাল রাজনৈতিক মহল।
১ ঘণ্টায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভিউ! রবিবার শপথের মঞ্চে রাহুল গান্ধী ও বিজয়ের সৌজন্য বিনিময় এবং রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার মুহূর্ত নিয়ে একটি রিল পোস্ট করা হয় কংগ্রেসের অফিসিয়াল হ্যান্ডল থেকে। সূত্রের খবর, পোস্ট হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ে সেটি ১ কোটি ২০ লক্ষ ভিউ ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে, রাহুল-বিজয়ের ছবি সম্বলিত পোস্টটি পৌঁছে যায় প্রায় ৪ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের কাছে। কিন্তু এর পরেই হঠাৎ দেখা যায়, রিলটি আর দেখা যাচ্ছে না। সেখানে লেখা উঠছে— ‘আইনি কারণে সীমাবদ্ধ’ (restricted due to legal requirements)।
কংগ্রেসের তোপ: ডিজিটাল সেন্সরশিপ? কংগ্রেস নেতা শ্রীভাৎসার দাবি, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের জয় এবং রাহুলের সঙ্গে তাঁর রসায়ন বিজেপির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী নেতাদের জনপ্রিয়তা কমাতে এবং তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া ‘রিচ’ নষ্ট করতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে। রাহুলের ফলোয়ার কমানোর জন্য বহুদিন ধরেই কেন্দ্র কলকাঠি নাড়ছে বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
পাল্টা যুক্তি কেন্দ্রের: ‘সরকার নয়, দোষ ইনস্টাগ্রামের’ অভিযোগ উঠতেই সাফাই দিয়েছে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)। সরকারের দাবি, এই পোস্ট ব্লক করার পেছনে তাদের কোনও হাত নেই। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইনস্টাগ্রামের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে কোনও ভুলভ্রান্তির কারণে হয়তো পোস্টটি সাময়িকভাবে ব্লক হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি তাদের নিজস্ব নীতির ভিত্তিতে কনটেন্ট ফিল্টার করে, সেখানে সরকারের হস্তক্ষেপের কোনও প্রশ্নই নেই। বর্তমানে ভিডিওটি পুনরায় পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যৎ কোন দিকে? তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিজয়ের এই ‘মহারাজকীয়’ উত্থান দক্ষিণ ভারতে কংগ্রেসকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর সেই ঘনিষ্ঠতার দৃশ্য ভাইরাল হতেই যেভাবে ‘ব্লক’ ও ‘আনব্লক’ নাটক চলল, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন কংগ্রেস ও বিজেপির সমর্থকদের মধ্যে চলছে জোরদার যুদ্ধ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিরোধী কণ্ঠ কি সত্যিই বিপন্ন? নাকি এটি নিছকই প্রযুক্তিগত ত্রুটি? এই তর্কেই এখন সরগরম নেটপাড়া।





