রাস্তাঘাট নোংরা করা বা যেখানে-সেখানে থুতু ফেলার বদভ্যাস যাঁদের রয়েছে, এবার তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। শহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় রাজ্য সরকার নিতে চলেছে এক কঠোর পদক্ষেপ। বুধবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে গোটা রাজ্যজুড়ে এই সংক্রান্ত নতুন ও কড়া নিয়ম কার্যকর করা হবে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে পকেট থেকে খসবে মোটা অঙ্কের জরিমানা।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তা ময়লা করা, থুতু ফেলা বা প্রকাশ্যে প্রস্রাব করার মতো কাজের ওপর আমরা কঠোর জরিমানা ধার্য করছি। জরিমানার পরিমাণ সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।” সরকার মানুষকে শোধরানোর জন্য আগামী তিন মাস সময় দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, রাজ্যের শহরগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তুলতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
এই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে রাজ্য সরকার একগুচ্ছ নতুন ও আধুনিক পরিকল্পনার ছক কষেছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পুরসভাকে চিহ্নিত করে ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে একটি বিশেষ ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা শহরের পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারবেন। নাগরিকদের সুবিধার জন্য গোটা রাজ্যে প্রতি ১০০ মিটার দূরত্বে নিয়মিত ব্যবধানে ডাস্টবিন বসানো হবে। রাস্তায় চিপসের প্যাকেট, জলের বোতল বা যেকোনো আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রেও কঠোর নজরদারি চালানো হবে।
শুধু রাস্তাঘাট নয়, পরিবহণ ব্যবস্থাতেও আসছে বড় পরিবর্তন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের সমস্ত বাসে বাধ্যতামূলকভাবে ‘ওয়েস্ট ব্যাগ’ বা বর্জ্য রাখার ব্যাগ রাখতে হবে। এর ফলে যাত্রীরা চলন্ত বাস থেকে রাস্তায় নোংরা ফেলার সুযোগ পাবেন না। রাস্তাঘাট নিয়মিত পরিষ্কার রাখার জন্য সরকার ‘নির্মল বন্ধু’ নামে এক নতুন বাহিনী নিয়োগ করছে। তাঁরা দিনে অন্তত দু’বার করে রাস্তা পরিষ্কার করবেন এবং বিনিময়ে দৈনিক ২০০ টাকা করে পারিশ্রমিক পাবেন।
শহরের যানজট ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ন্ত্রণে টোটোচালকদের প্রতিও কঠোর ও মানবিক বার্তা দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা টোটো বন্ধ করে কারোর রুটি-রোজগারে আঘাত করতে চাই না। কিন্তু যেখানে-সেখানে টোটো দাঁড় করিয়ে জটলা তৈরি করা আর চলবে না।” পুরসভাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি এলাকায় নির্দিষ্ট টোটো স্ট্যান্ড তৈরি করতে, যাতে যাত্রীরা লাইন দিয়ে টোটোয় উঠতে পারেন। সরকারের এই ‘কড়া দাওয়াই’ রাজ্যের পুর এলাকাগুলোর চেহারা কতটা দ্রুত বদলায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শহরের পরিবেশ দূষণ অনেকটাই কমবে এবং নাগরিকরা আরও বেশি দায়িত্বশীল হয়ে উঠবেন।





